টাইফয়েড জ্বর হলে কি কি খাওয়া উচিত

টাইফয়েড জ্বর হলো এক ধরনের জ্বর যা সালমোনেলা টাইফি নামের এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমনের ফলে হয়। সাধারণত এই ব্যাকটেরিয়া দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করে। এই ব্যাকটেরিয়া মানুষের অন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায় এবং রক্তে এক ধরনের টক্সিন নিঃসরণ করে যার ফলে শরীরে জ্বর আসে, এই জ্বরকে টাইফয়েড জ্বর বলা হয়।

সালমোনেলা প্যারাটাইফি নামের আরেক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ফলে প্যারা টাইফয়েড ফিভার হয়। টাইফয়েড ও প্যারাটাইফয়েড ফিভারকে একসাথে এন্টারিক ফিভার ফিভার বলা হয়। উন্নত বিশ্বে টাইফয়েড রোগ তেমন একটা দেখা যায় না। তারপরও সারা বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ২১৫,০০০ মানুষ এ রোগে মারা যায়।

টাইফয়েড রোগের ব্যাকটেরিয়া দেহে প্রবেশের পর অর্থাৎ এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সাথে সাথে সাধারণত কোন লক্ষণ প্রকাশ পায় না। এই জ্বরের লক্ষণ গুলো স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেতে কিছুদিন সময় লাগে। টাইফয়েড হলে জ্বর, মাথা ব্যাথা, পেটে ব্যথা, শরীর ব্যথা, বমি বমি ভাব ও ডায়রিয়া হতে পারে।

টাইফয়েড একটি ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ তাই এই রোগ থেকে সুস্থ হতে হলে ডাক্তারের পরামর্শে এন্টিবায়োটিক খেতে হবে। পথ্য বা খাবার এই রোগ নিরাময় করতে পারে না। তবে কিছু খাবার এই রোগের লক্ষণ ও উপসর্গগুলো উপশমে সাহায্য করে।

টাইফয়েড জ্বর হলে কি কি খাওয়া উচিত

টাইফয়েড ফিভারে হজমে সমস্যা হয় ও রোগী খুব দুর্বল বোধ করে। তাই এই রোগে ফাইবারযুক্ত খাবার গুলো খুব অল্প পরিমাণে খাওয়া উচিত। কারণ ফাইবার যুক্ত খাবার হজমের সমস্যা আরো বাড়িয়ে দিতে পারে। সহজে হজম হয় এমন সব খাবার খেতে হবে। তেল, চর্বি ও মশলাদার খাবার সহজে হজম হয় না। তাই টাইফয়েড জ্বর থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া পর্যন্ত এই ধরনের খাবার গুলো পরিহার করা উচিত।

আরো পড়ুন দ্রুত পেটের গ্যাস কমানোর ঘরোয়া উপায়।

প্রচুর পরিমাণে নিরাপদ পানি পান করতে হবে। টাইফয়েড এর পথ্য হিসেবে সবচেয়ে ভালো ফল বা ফলের রস। ফলমূল ভালো ভাবে ধুয়ে খেতে হবে। অর্ধ সেদ্ধ মাছ-মাংস, সবজি ও অন্যান্য খাবার খাওয়া যাবে না। নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে বিশেষ করে খাবার খাওয়ার আগে ও পায়খানার পর।

টাইফয়েড জ্বরে যা খাবেন

টাইফয়েড আক্রান্ত রোগীদের সহজে হজম হয় এবং অধিক পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ খাবার গুলো খেতে হবে। সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া পর্যন্ত কম ফাইবার যুক্ত খাবার গুলো খেতে হবে। যেমন: ভালোভাবে রান্না করার শাকসবজি, পাকা ফল এবং মিহি শস্য। কার্বোহাইড্রেট যুক্ত খাবার খাবেন। এখানে টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের পথ্য হিসেবে কিছু খাবারের কথা উল্লেখ করা হলো-

  • আলু, গাজর, সবুজ মটরশুটি, বিট জাতীয় সবজিগুলো ভালোভাবে রান্না করে খেতে হবে
  • মুগের ডালের খিচুড়ি সহজে হজম হয় তাই এই খিচুড়ি খেতে পারেন।
  • পাকা কলা, তরমুজ, আপেল এবং সব ধরনের পাকা ফল
  • কার্বোহাইড্রেট যুক্ত খাবার গুলো বেশি বেশি খেতে হবে। যেমন: সাদা চাল, পাস্তা, সাদা রুটি ইত্যাদি
  • ডিম, মুরগি, টার্কি, মাছ ইত্যাদি প্রোটিন যুক্ত খাবার খাবেন 
  • দুধ, দই, পনির খেতে পারেন তবে যাদের দুধ খেলে হজমে সমস্যা হয় তারা দুধের পরিবর্তে দই, পনির খেতে পারেন
  • টাইফয়েড ফিভারে ডায়রিয়া হতে পারে তাছাড়া প্রচন্ড ঘামে শরীর থেকে লবণ পানি বেরিয়ে যায় তাই পানি শূন্যতা হতে পারে। পানি শূন্যতা প্রতিরোধে নারকেল জল, খাবার স্যালাইন, গ্লুকোজ এবং তরমুজ, কমলা ইত্যাদি রসালো ফল খাওয়া যেতে পারে।

টাইফয়েড জ্বর হলে কি কি খাওয়া উচিত না

জ্বর ভালো হয়ে গেলেও হজম শক্তি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগে। তাই হাই ফাইবার ফুড গুলো না খাওয়াই ভালো। সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া পর্যন্ত তেল ও চর্বি জাতীয় খাবারগুলো থেকে বিরত থাকুন।

  • কাঁচা পেঁয়াজ, ব্রোকলি, ফুলকপি, বাঁধাকপি খাওয়া ঠিক না
  • ডোনাট, সিঙ্গারা, ফ্রাইড চিকেন, পটেটো চিপস, পেঁয়াজের রিং ইত্যাদি তেলে ভাজা খাবার খাওয়া চলবে না
  • কালো মটরশুটি, কিডনি বিন, মসুর ডাল, ছোলা খাওয়া বাদ
  • শুকনো ফল এবং কাঁচা বেরি, আনারস এবং কিউই না খাওয়াই ভালো
  • বাদাম, পেস্তা, ম্যাকাডামিয়া বাদাম, আখরোট খাওয়া বন্ধ রাখুন
  • বাদামী চাল, কুইনো, বার্লি ও ওটস সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখুন
  • কুমড়োর বীজ, চিয়া বীজ এবং ঝাল ও মশলাদার সব খাবার খাওয়া উচিত নয়।

টাইফয়েড দুর্বলতা থেকে মুক্তির উপায়

টাইফয়েড এর পরবর্তী সময়ে শরীর প্রচন্ড দুর্বল হয়ে যায়। এই দুর্বলতা থেকে মুক্তি পেতে হলে বিশ্রামের পাশাপাশি প্রচুর পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। তাছাড়া জ্বর চলে যাওয়ার পরেও প্রচন্ড ঘাম হতে পারে। ঘামের সাথে লবণ পানি শরীর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কারণে শরীর আরো দুর্বল হয়ে যায়। তাই এ সময়ে খাবার স্যালাইন, তরমুজ, ডাবের পানি, কমলা ও সব ধরনের রসালো ফল খেতে হবে। এ সময়ে রোগীর খাবারের প্রতি অরুচি থাকবে। তাই একটু পর পর খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। রোগীকে তার পরিবার থেকে মানসিকভাবে সহযোগিতা করতে হবে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *