জ্বর মাপার থার্মোমিটার ব্যবহারের নিয়ম। জ্বর মাপার থার্মোমিটার দাম কত?

থার্মোমিটার শব্দটির সাথে আমরা সবাই কমবেশি পরিচিত। জ্বর হলে যেতে হয় ডাক্তার বাবুর কাছে। ডাক্তার বাবু থার্মোমিটার দিয়ে জ্বর মাপেন। সহজে বলতে গেলে থার্মোমিটার চিকিৎসা ক্ষেত্রে ব্যবহৃত অতি পরিচিত যন্ত্রবিশেষ।

ডাক্তারের কাছে বা ফার্মেসিতেই নয় স্বাস্থ্য সচেতন যে কোন লোক থার্মোমিটার রাখেন তার নিজ ঘরে। তার পরিবারের সদস্যদের গা গরম হলে মেপে নেন তাপমাত্রা। তবে থার্মোমিটার ব্যবহারে সঠিক নিয়মজানা থাকতে হবে।

এই আর্টিকেলের মাধ্যমে জানিয়েছি থার্মোমিটার ব্যবহারের নিয়ম সম্পর্কে। আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে শেষ পর্যন্ত পড়ুন থার্মোমিটার সম্পর্কে অনেক তথ্য পেয়ে যাবেন।

থার্মোমিটার কি (what is thermometer)

থার্মোমিটার শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে দুটি গ্রীক শব্দ থেকে। যার প্রথমটি হলো thermo যার অর্থ হলো তাপ এবং দ্বিতীয়টি meter যার অর্থ পরিমাপ করা।

জ্বর মাপার থার্মোমিটার ব্যবহারের নিয়ম।

শব্দ দুটিকে একত্রে করলে হয় thermometer যার অর্থ হয় তাপমাত্রা পরিমাপ করা। মূলত thermometer হলো একধরনের যন্ত্র যার সাহায্যে  তাপমাত্রা নির্নয় করা যায়। 

বিভিন্ন প্রকার থার্মোমিটার এর নাম।

আমরা সাধারণত মেডিক্যাল থার্মোমিটার বা ডাক্তারি থার্মোমিটার সম্পর্কে জানলেও আরো নানাধরণের থার্মোমিটার রয়েছে। তাহলে আসুন জেনে নেই বিভিন্নধরনের থার্মোমিটার এর নাম।

  • অ্যালকোহল থার্মোমিটার (Alcohol thermometer)
  • বেকম্যান ডিফারেন্সিয়াল থার্মোমিটার (Beckman differential thermometer)
  • দ্বি-ধাতব যান্ত্রিক থার্মোমিটার (Bimetallic mechanical thermometer)
  • কুলম্ব আবদ্ধকরণ থার্মোমিটার (Coulomb binding thermometer)
  • গ্যালিলিও থার্মোমিটার (Galileo thermometer)
  • অবলাল থার্মোমিটার (Abalal thermometer)
  • লিকুইড ক্রিস্টাল থার্মোমিটার (Liquid crystal thermometer)
  • পারদ থার্মোমিটার (Mercury thermometer)
  • চিকিৎসা থার্মোমিটার (Medical thermometer)
  • রোধ থার্মোমিটার (Resistance thermometer)
  • থার্মিস্টর (Thermistor)

থার্মোমিটার এর কাজ

থার্মোমিটার এর কাজ হলো তাপমাত্রা বা উষ্ণতা পরিমাপ করা। থার্মোমিটার দিয়ে প্রাণী (মানুষ এবং ক্ষেত্রবিশেষ অন্যান্য প্রানীর) ও কোন বস্তুর তাপমাত্রা নির্নয় করা যায়। যেমনঃ আমরা যখন ডাক্তারের কাছে যাই ডাক্তার জিহবার নিচে থার্মোমিটার দিয়ে শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করে।  চিকিৎসা ক্ষেত্রে ব্যবহার করা এই থার্মোমিটারকে মেডিক্যাল থার্মোমিটার বলে।

মেডিক্যাল থার্মোমিটার বা ডাক্তারি থার্মোমিটার 

থার্মোমিটার বলতে আমরা সাধারণত জ্বর মাপার জন্য যে থার্মোমিটার ব্যবহার করা হয় সেটাকে বুঝে থাকি।  শরীরের তাপমাত্রা বা জ্বর মাপার জন্য যে থার্মোমিটারগুলো ব্যবহার করা হয় সেগুলো আবার অনেক ধরনের হয়। জ্বর মাপতে পারদ থার্মোমিটার সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়। পারদ থার্মোমিটারের ব্যবহার অনেক পুরাতন।

আরও পড়ুন পারকিনসন রোগ কি এবং এই রোগের লক্ষণ, উপসর্গ ও প্রতিরোধের উপায়।

বর্তমানে এই থার্মোমিটারের বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে। অনেক ফার্মেসীতে বিক্রি করা হয় জ্বর মাপার এই থার্মোমিটার। জ্বর মাপার এই থার্মোমিটারগুলোকে মেডিক্যাল থার্মোমিটার বলা হয়। বর্তমানে ডিজিটাল টাইপের পারদ থার্মোমিটার পাওয়া যায়।

বিশ্বব্যাপী করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার ফলে ইনফ্রারেড থার্মোমিটার নামের একধরনের থার্মোমিটার বেশ পরিচিতি পেয়েছে। ইনফ্রারেড থার্মোমিটারের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো শরীরে স্পর্শ না করেই জ্বর মাপা যায়।

পারদ থার্মোমিটার ব্যবহারের নিয়ম

আমাদের দেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা হলো ৯৮.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মুখে থার্মোমিটার রাখলে যদি ৯৮.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রা পাওয়া যায় তাহলে বুঝতে হবে শরীর স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রয়েছে। এর বেশি তাপমাত্রা হলে জ্বর ধরে নিতে হবে।

জ্বর মাপার স্থান

মুখ,বগলে ও পায়ুপথে থার্মোমিটার রেখে জ্বর মাপা হয়। মানুষের ক্ষেত্রে মুখে ও বগলে থার্মোমিটার রেখে জ্বর মাপা হয়। আর অন্যান্য প্রানীদের ক্ষেত্রে পায়ুপথে থার্মোমিটার রেখে জ্বর মাপা হয়। মুখে, বগলে ও পায়ুপথে তাপমাত্রা ভিন্ন হয়।

জ্বর মাপার থার্মোমিটার ব্যবহারের নিয়ম

যেকোনো থার্মোমিটার ব্যবহার করার পূর্বে স্প্রিরিট, হাইড্রোজেন পারঅঅক্সাইড বা সাবান দিয়ে ভালোকরে ধুয়ে নিতে হবে। তারপর পরিষ্কার ও শুকনো কাপড় দিয়ে থার্মোমিটারটিকে মুছে ফেলুন। 

থার্মোমিটারের পারদের অবস্থান দেখে নিন। যদি পারদ ৯৭ দাগের উপরে থাকে তাহলে ঝাঁকুনি দিয়ে পারদটিকে ৯৭ দাগের নিচে আনতে হবে। থার্মোমিটারটিকে তার শেষ প্রান্তে ধরে সতর্কতার সাথে ঝাঁকুনি দিতে হবে। আর ডিজিটাল থার্মোমিটারের ক্ষেত্রে সুইচ অন করে নিতে হবে। 

এবার থার্মোমিটার ১ মিনিট পর্যন্ত জিহ্বা বা বগলের নিচে রেখে দিন। এক মিনিট পর সরিয়ে নিন। আর ডিজিটাল থার্মোমিটার হলে শব্দ করা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। শব্দ হলে সরিয়ে নিন। রিডিং দেখে জেনে নিন আপনার শরীরের তাপমাত্রা কত। পুনরায় থার্মোমিটারটিকে স্প্রিরিট, হাইড্রোজেন পারঅঅক্সাইড বা সাবান দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিন এবং পরিষ্কার কাপড় দিয়ে মুছে ফেলুন।

থার্মোমিটার এর দাম

সাধারণ থার্মোমিটার গুলোর দাম খুব একটা বেশি না। সাধারণ থার্মোমিটারগুলোর দাম ৫০ থেকে ১৫০ এর মতো হয়ে থাকে। ডিজিটাল থার্মোমিটারগুলোর দাম ১০০ থেকে ৫০০ এর মতো হয়ে থাকে। আর ইনফ্রারেড থার্মোমিটারগুলো একটু দামী হয়। ইনফ্রারেড থার্মোমিটারগুলোর দাম সাধারণত ২০০০ থেকে ১০০০০ এর মতো হয়ে থাকে। দাম মূলত প্রোডাক্ট এর মানের উপর নির্ভর করে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *