শিশুর নেবুলাইজার ব্যবহারের নিয়ম।

নেবুলাইজার মেশিন হল একটি ছোট যন্ত্র বিশেষ যা চিকিৎসা কাজে ব্যবহার করা হয়। এই মেশিনের সাহায্যে তরল ঔষধকে ইনহেলার হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এক কথায় নেবুলাইজার হল একটি ড্রাগ ডেলিভারি মেশিন যা তরল ওষুধকে অ্যারোসল ড্রপলেটে রূপান্তর করে শ্বাসের মাধ্যমে ব্যবহারের সুযোগ করে দেয়।

অনেকেই শিশুর নেবুলাইজার ব্যবহারের নিয়ম জানতে চায়। শিশু ও প্রাপ্ত বয়স্ক, সবার ক্ষেত্রে নেবুলাইজেশন করার নিয়ম একই ধরনের। শুধু ওষুধের পরিমানে পার্থক্য থাকে। শিশু থেকে শুরু করে যে কোন বয়সের ব্যক্তির নেবুলাইজার ব্যবহারের সঠিক নিয়ম জানানো হয়েছে এই পোস্টে।

নেবুলাইজার এর কাজ কি?

নেবুলাইজার ব্যবহারের নিয়ম।

নেবুলাইজার এর কাজ হল তরল ঔষধ কে ছোট ছোট অ্যারোসল ফোঁটায় পরিণত করা যেন তা শ্বাসের সাথে ব্যবহার করা যায়। এই মেশিনটি লিকুইড ঔষধকে ছোট ছোট অ্যারোসল ফোঁটায় বিভক্ত করে যা নাক অথবা মুখ দিয়ে টেনে ব্যবহার করা যায়। আমাদের দেশে ফার্মেসিতে, হাসপাতালে, অন্যান্য চিকিৎসা কেন্দ্রে নেবুলাইজার দেখা যায়। বাসা বাড়িতেও অনেক রোগীকে এই মেশিন ব্যবহার করতে দেখা যায়।

নেবুলাইজার কখন দিতে হয়

একটা কথা আমাদের মনে রাখতে হবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ ব্যবহার জটিল সমস্যার তৈরি করতে পারে। সাসপেনশন বা নেবুলাইজারে ব্যবহারের তরল ওষুধটি অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ ব্যবহার করতে হবে। সাধারণত শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হলে চিকিৎসকেরা নেবুলাইজেশন করার পরামর্শ দেন।

ফুসফুসের বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় নেবুলাইজার ব্যবহৃত হয়। যেমন:

  • ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি)
  • হাঁপানি
  • ব্রঙ্কাইক্টেসিস
  • সিস্টিক ফাইব্রোসিস
  • পালমোনারি ফাইব্রোসিস ইত্যাদি।

অনেকেই সামান্য সর্দি-কাশিতে নেবুলাইজার মেডিসিন ব্যবহার করে থাকে বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে। নেবুলাইজার ব্যবহারে শুধু শ্বাসকষ্ট উপশম হয় তাই নেবুলাইজার মেডিসিন ব্যবহারের পাশাপাশি ডাক্তারের পরামর্শে ওষুধ সেবন করতে হবে ও বিধি নিষেধ মেনে চলতে হবে।

নেবুলাইজার ব্যবহারের নিয়ম

নেবুলাইজেশন করার আগে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে তাহলো ওষুধের পরিমাণ। ওষুধের পরিমাণ রোগীর বয়স ও অসুখের ধরনের উপর নির্ভর কর। একটা নেবুলাইজার মেশিনের কয়েকটি অংশ থাকে। যেমন: এয়ার কম্প্রেসার, নেবুলাইজার কাপ বা মেডিসিন চেম্বার, মাস্ক বা মাউথ পিস ও টিউব বা নল।

আরো পড়ুন সোলার প্যানেল এর দাম ২০২৪

খুব সহজেই নেবুলাইজার ব্যবহার করা যায়। নিচের প্রতিটি স্টেপ ভালোভাবে ফলো করুন। মেশিনটি চালু করা থেকে ওষুধ ব্যবহার করা পর্যন্ত সবকিছুই স্টেপ বাই স্টেপ বলা হয়েছে।

  • প্রথমে মেশিনটিকে একটি সমান জায়গায় রেখে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র গুছিয়ে নিন ও বৈদ্যুতিক আউটলেটে প্লাগ করুন।
  • সাবান পানি দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুয়ে টিস্যু দিয়ে মুছে সম্পূর্ণ শুকিয়ে নিতে হবে। হাত জীবাণু মুক্তকরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
  • মেডিসিন চেম্বারে প্রয়োজনীয় মাত্রায় ওষুধ নিন। এক্ষেত্রে আপনাকে ডাক্তার কর্তৃক নির্ধারিত মাত্রায় ওষুধ নিতে হবে।
  • মেডিসিন চেম্বার ও মাস্ক একসাথে ভালো করে লাগিয়ে নিতে হবে।
  • টিউব বা নল দিয়ে এয়ার কম্প্রেসার ও মেডিসিন চেম্বার একসাথে সংযোগ করে নিতে হবে। 
  • সুইচ অন করে দেখুন মেশিনটি ঠিকঠাক কাজ করছে কিনা। যদি মেশিনটি ঠিকঠাক কাজ করে তাহলে হালকা কুয়াশার মতো ওষুধ বের হবে।
  • আরামদায়ক অবস্থায় বসে মুখে মাস্ক পরে ধীরে ধীরে লম্বা শ্বাস নিতে হবে। শ্বাস ছাড়ার আগে দুই থেকে তিন সেকেন্ড শ্বাস ধরে রাখতে পারলে ভালো উপকার পাবেন।
  • মাউথপিস ব্যবহার করলে দাঁতের চিপায় মাউথপিস রেখে ঠোঁট বন্ধ করে রাখতে হবে। শিশুদের নেবুলাইজেশন করার সময় ভালোভাবে কোলে বসিয়ে নিবেন।
  • ওষুধ সম্পুর্ন শেষ হলে সুইচ অফ করে দিন।

নেবুলাইজার এর অপকারিতা

নেবুলাইজার এর বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে। একটু সতর্ক থাকলে অধিকাংশ সমস্যা সহজেই সমাধান করা যায়। নেবুলাইজেশন করলে শ্বাসকষ্ট দ্রুত কমে কিন্তু শ্বাসনালীতে ইনফ্লামেশন থেকে যায়। অর্থাৎ নেবুলাইজেশন করলে রোগ কমেনা শুধু রোগের উপসর্গ গুলো কমে।‌ তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত দীর্ঘদিন নেবুলাইজেশন করার ঠিক না। এতে আপনার শ্বাসকষ্ট কমবে ঠিকই কিন্তু যে রোগের কারণে শ্বাসকষ্ট হচ্ছে ধীরে ধীরে তা প্রকট হতে পারে।

  • কিছু ক্ষেত্রে নেবুলাইজেশন করলে শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা কমে যেতে পারে।
  • অ্যাজমা ও সিওপিডি রোগীদের দীর্ঘদিন নেবুলাইজার ব্যবহার করা উচিত নয়।
  • ব্যবহারের পর মাস্ক বা মাউথ পিস ৩০ সেকেন্ড গরম পানিতে ভিজিয়ে না রাখলে পরবর্তীতে ব্যবহারে‌ জীবাণু সংক্রমনের সম্ভাবনা থাকে।
  • নেবুলাইজেশন করার শুরুতে অনেক সময় শ্বাসনালি হঠাৎ সংকুচিত হয়ে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। অবস্থায় রোগীকে দ্রুত অক্সিজেন দিতে হবে।
  • নেবুলাইজেশন করার সময় মাথা ঘুরলে ৫ মিনিটের মত বিশ্রাম নিয়ে আবার নেবুলাইজেশন শুরু করুন। পুনরায় এই সমস্যা দেখা দিলে ডাক্তারকে বিষয়টি জানাতে হবে।
  • ওষুধ নেয়ার একবারে শেষের দিকে মেডিসিন চেম্বারে কিছু ওষুধ লেগে থাকে। ওষুধের অপচয় রোধে মেডিসিন চেম্বারে হালকা ঝাঁকি দিয়ে সম্পূর্ণ ওষুধ ব্যবহার যায়।

শেষ কথা

এই পোস্টের কোন অংশ বুঝতে কোন অসুবিধা হলে আমাদের জানাবেন। আশাকরি শিশুর নেবুলাইজার ব্যবহারের সঠিক নিয়ম আপনাদের জানাতে পেরেছি। ব্যবহৃত নেবুলাইজার ভালো ভাবে জীবাণুমুক্ত না করে শিশুকে ব্যবহার করতে দিবেন না। এতে জীবাণুর সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *