মাথা ব্যথার ঘরোয়া চিকিৎসা। দ্রুত মাথা ব্যথা কমানোর উপায়।

মাঝে মাঝে মাথা ব্যথা হতে পারে যা একটা স্বাভাবিক ব্যাপার। সামান্য মাথা ব্যথা কিছুক্ষণ স্থায়ী হয় এবং এমনিতে সেরে যায়। সাধারণত বিষয়টা আমরা অনেকেই তেমন গুরুত্ব দেই না। অনেক সময় মাথাব্যথা দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র হয় যা অত্যন্ত কষ্টদায়ক। মাথা ব্যথাকে হালকাভাবে নেওয়া যাবে না, গুরুত্ব দিতে হবে। কেননা এর পিছনে রয়েছে নানা কারণ। যেমন: মাইগ্রেন, মাথায় টিউমার, ক্লাস্টার মাথাব্যথা ইত্যাদি। তাই এই বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।

ব্যথা মাথার যেকোনো এক দিকে হতে পারে আবার সবটুকু মাথায় হতে পারে। মাঝে মাঝে মাথাব্যথা হলে ভয়ের কোন কারণ নেই। কিন্তু প্রতিনিয়ত ব্যথা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বিশেষ করে দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র মাথা ব্যথার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খাওয়া ঠিক না। ওষুধ খেলে সাময়িকভাবে ব্যথা কমবে ঠিকই কিন্তু আসল কারণ খুঁজে বের করে সঠিক চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন।

মাথা ব্যথার কারণ

মাথা ব্যথার ঘরোয়া চিকিৎসা।

মাথা ব্যথার কারণ গুলো জানা জরুরী। কারন গুলো জানা থাকলে এই বিষয়ে আপনি আরো সচেতন হতে পারবেন। এখানে কিছু সম্ভাব্য কারণ আপনাদের সামনে তুলে ধরেছি।

  • মাইগ্রেন
  • সর্দি বা ফ্লু
  • ব্রেন টিউমার
  • ডিহাইড্রেশন
  • মানসিক চাপ
  • সাইনোসাইটিক
  • অ্যালকোহল সেবন করা
  • মাসিকের সময় ও মেনোপজের সময়
  • দৃষ্টিশক্তির সমস্যা জনিত কারণে মাথাব্যথা।

মাথা ব্যথার ঘরোয়া চিকিৎসা

সাধারণত মাথায় ব্যথা হলে আমরা ব্যথা নাশক ওষুধ সেবন করে থাকি। পেইন কিলার গুলোর রয়েছে নানা রকম পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া। বেশি বেশি পেইন কিলার খেলে শরীরে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

পেইন কিলার এর বিকল্প হতে পারে মাথা ব্যথার ঘরোয়া চিকিৎসা। তাই আমাদের জানতে হবে ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায় গুলো। আমি এই নিবন্ধে মাথা ব্যথা কমানোর বেশ কয়েকটি ঘরোয়া পদ্ধতি সম্পর্কে জানিয়েছি। আপনি চাইলে জেনে নিতে পারেন, আশা করি আপনার উপকারে আসবে।

উজ্জ্বল আলো এড়িয়ে চলুন

আলোর ঝলকানিতে মাথা ব্যথা হতে পারে। বিশেষ করে মাইগ্রেন জনিত মাথাব্যথা। মাথা ব্যথা উপশমে কম আলোতে থাকতে হবে। ঘরের দরজা জানালা বন্ধ করে লাইট নিভিয়ে রাখুন অথবা লাইট বন্ধ করে দরজা জানালায় ব্ল্যাকআউট পর্দা টানিয়ে দিন। বাইরে বের হলে কালো সানগ্লাস ব্যবহার করুন।

দীর্ঘ সময় মোবাইল ও কম্পিউটার ব্যবহারের কারণে মাথা ব্যথা হতে পারে। আপনার যদি দীর্ঘসময় কম্পিউটারে কাজ করতে হয়, কম্পিউটারে অ্যান্টি-গ্লেয়ার স্ক্রিন ব্যবহার করে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে।

ভেষজ চা

মাথা ব্যথা দ্রুত কমাতে পান করুন ১ কাপ ভেষজ চা। বিভিন্ন ধরনের ভেষজ উদ্ভিদের অংশ দিয়ে তৈরি করতে হয় ভেষজ চা। ভেষজ উদ্ভিদের প্রাকৃতিক উপাদান গুলি শরীরের জন্য বিভিন্ন উপকারে আসে। এই চা শরীরকে হাইড্রেট রাখতে সাহায্য করবে।

আরো পড়ুন গ্যাস্ট্রিক আলসার রোগীর খাদ্য তালিকা।

আদা চা পান করলে মাইগ্রেন জনিত মাথাব্যথা কমে। এই চা অনেকটা মাইগ্রেনের সাধারণ ওষুধ গুলির মত কাজ করে। লবঙ্গ মাথাব্যথা সহ বিভিন্ন ধরনের ব্যথার ঘরোয়া চিকিৎসায় কয়েক যুগ ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। লবঙ্গতে অ্যান্টি-নোসাইসেপটিভ উপাদান রয়েছে যা সব ধরনের ব্যথা উপশমে কার্যকরী।

পিপারমিন্ট তেল কপালে লাগালে টেনশন জনিত মাথাব্যথা দ্রুত কমে। মাইগ্রেনের মাথা ব্যথা কমাতে পিপারমিন্ট চা দারুন ভাবে কাজ করে। বিশ্বব্যাপী এমন অনেক ঔষধি গাছ রয়েছে যেগুলোর অংশ দিয়ে চা বানিয়ে পান করলে দ্রুত মাথা ব্যাথা উপশম হয়।

নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম

ঘুম মানসিক প্রশান্তি আনে। ঘুমের অভাবে স্বাস্থ্যের উপর অনেক ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। এমনকি ঘুমের অভাবে মাথা ব্যথা পর্যন্ত হতে পারে। যারা ঘন ঘন গুরুতর মাথা ব্যথায় আক্রান্ত হয় তাদের মধ্যে বেশিরভাগ লোকের ঘুমের অভাব রয়েছে।

চিকিৎসকরা প্রতি রাতের ৭ থেকে ৯ ঘন্টা ঘুমানোর পরামর্শ দিয়ে থাকে। মাথা ব্যথা প্রতিরোধ ও মাথা ব্যথার ঘরোয়া চিকিৎসায় পরামর্শ রইল প্রতি রাতে কমপক্ষে ৭ ঘন্টা ঘুমানোর।

পানি ও অন্যান্য তরল খাবার

দীর্ঘ সময় পানিশূন্যতার কারণে মাথাব্যথা হতে পারে। আসলে গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে বলেই এখানে তুলে ধরেছি। একটি গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে লম্বা সময় পানিশূন্যতায় থাকলে মাথা ব্যথা ও মাইগ্রেন হতে পারে। পানি শূন্যতার কারণে মাথাব্যথা হলে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি বা তরল খাবার গ্রহণে আধা ঘন্টা থেকে তিন ঘন্টার মধ্যে মাথা ব্যথা কমে যায়।

শুধু মাথা ব্যথা প্রতিরোধে নয় সুস্থ থাকতে হাইড্রেট থাকা জরুরী। আর এজন্য আমাদের পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি ও অন্যান্য তরল খাবার খেতে হবে।

ম্যাগনেসিয়াম গ্রহণ

সুস্থ থাকার জন্য আমাদের যে সকল মিনারেল দরকার তাদের মধ্যে একটি হলো ম্যাগনেসিয়াম। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও স্নায়ুতন্ত্রকে সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করা সহ নানা ধরনের শরীরবৃত্তীয় কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এমনকি ম্যাগনেসিয়াম মাথা ব্যথা কমাতে কার্যকর। ম্যাগনেসিয়ামকে মাথা ব্যথা কমানোর একটি ঘরোয়া প্রতিকার বলা যেতে পারে।

একটি গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, ম্যাগনেসিয়াম এর ঘাটতিতে রয়েছে এমন ব্যক্তিদের মাইগ্রেনে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

আরো একটি গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, প্রতিদিন ৬০০ মিলিগ্রাম ওরাল ম্যাগনেসিয়াম সাইট্রেট গ্রহণে মাথাব্যথা অনেক কমে যায়। মাথা ব্যথা কমাতে খেতে পারেন পর্যাপ্ত পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ খাবারগুলো। প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ম্যাগনেসিয়াম সাপ্লিমেন্ট খাওয়া যেতে পারে।

খাবারের অসহিষ্ণুতা

খাবারের অসহিষ্ণুতা অনেকের মাথা ব্যথার কারণ হতে পারে। কফি, অ্যালকোহল, চকোলেট ও সাইট্রাস ফলকে মাইগ্রেন জনিত মাথা ব্যথার ট্রিগার বলা যেতে পারে। আপনার কখনো মাইগ্রেনে আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস থাকলে এই ধরনের খাবার এড়িয়ে চলুন।

কোন খাবার খাওয়ার পর মাথাব্যথা হলে পরবর্তীতে এই ধরনের খাবার না খাওয়াই ভালো। আপনাকেই খুঁজে বের করতে হবে কোন ধরনের খাবারে আপনার অসহিষ্ণুতা রয়েছে।

হিস্টামিন যুক্ত খাবার খাওয়া যাবেনা

হিস্টামিন একটি রাসায়নিক পদার্থ যা আমাদের শরীরের বিভিন্ন সিস্টেমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে ইমিউন সিস্টেম, ডাইজেস্টিভ সিস্টেম ও নার্ভাস সিস্টেম এর উপর হিস্টামিন এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

সকল স্তন্যপায়ী প্রাণীর কোষ কলায় হিস্টামিন থাকে। তবে কিছু খাবারে হিস্টামিন রয়েছে। এই খাবার গুলো বেশি বেশি খেলে মাইগ্রেন জনিত মাথাব্যথার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে যাদের এর প্রতি সংবেদনশীলতা রয়েছে। যেমন: পনির, দই, ওয়াইন, সব ধরনের গাজন খাবার, কিউরেট ফিস ইত্যাদি। তাই উচ্চ মাত্রায় হিস্টামিন সমৃদ্ধ সব ধরনের খাবার এড়িয়ে চলুন।

প্রাকৃতিক প্রতিকার

আদায় রয়েছে প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন সিনথেসিস নামক এক ধরনের উপাদান। এই পদার্থটি ব্যাথা নাশক ওষুধ অ্যাসপিরিনে ব্যবহার করা হয়। তাই দ্রুত মাথা ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে একটু আদা চিবিয়ে খান। তাছাড়া মাথাব্যথা দূর করতে আদা চায়ের সাথে মধু মিশিয়ে খেলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

মিষ্টি কুমড়ার বিচি ম্যাগনেসিয়াম সালফেট দিয়ে ভরপুর। ম্যাগনেসিয়াম সালফেট মাইগ্রেন ও টেনশন জনিত মাথা ব্যথা সহ সব ধরনের মাথা ব্যথায় দূর করতে সাহায্য করে। তাই মাথা ব্যথা হলে মিষ্টি কুমড়ার বিচি ভেজে খেলে উপকার পাবেন।

ঠান্ডায় মাথা ব্যথা হলে করণীয়

ঠান্ডা লেগে মাথা ব্যাথা করা মাথা ব্যথার কারণ গুলোর মধ্যে একটি। সর্দি ও জ্বর হলে মাথা ব্যথা হতে পারে। সর্দিতে নাকের সাইনাসে ইনফেকশন বা সাইনোসাইটিক হয় যার কারনে মাথা ব্যথা হয়।

এক্ষেত্রে মেন্থল বাষ্প বেশ উপকারে আসে। নাকের জ্যাম ও মাথা ব্যথা দূর করতে মেন্থল বাষ্প নিতে পারেন। আদার রস, মধু, তুলসী পাতা একসাথে মিশিয়ে চা বানিয়ে পান করলে সর্দি উপশম হবে এবং মাথা ব্যথা দূর হবে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *