বাচ্চাদের আমাশয় হলে কি খাওয়া উচিত।

আমাশয় যেকোন বয়সে হতে পারে। বাচ্চাদের পেটে আমাশয় রোগের জীবাণু ঢুকলে আমাশয় দেখা দেয়। আমাশয় মূলত ব্যাকটেরিয়া বা পরজীবীর সংক্রমণের কারণ হয়। সাধারণত এন্টামিবা হিস্টোলাইটিকা নামের এক ধরনের পরজীবী বা শিগেলা ব্যাকটেরিয়া যদি শিশুদের পেটে সংক্রমণ ঘটায় তাহলে আমাশয় হয়।

পেটের রোগ বাচ্চাদের একটি কমন স্বাস্থ্য সমস্যা বাচ্চারা আঙ্গুল মুখে দেয় যা স্বাভাবিক বিষয়। আঙুলে জীবাণু থাকলে সেটা পেটে ঢুকে ডায়রিয়া ও আমাশয়ের মতো রোগ সৃষ্টি করে। তাছাড়া বাচ্চারা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার খেলে পেটে অসুখ হয়।

বাচ্চাদের পেটে শিগেলা ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ ঘটালে তাকে শিগেলাসিস বলে। ডায়রিয়া, মলের সাথে রক্ত ও শরীরে জ্বর থাকা এই রোগের লক্ষণ। বাচ্চাদের আমাশয় হলে কি করা উচিত, কোন কোন খাবারগুলো খেতে হবে এই বিষয়গুলো স্পষ্ট ভাবে জানানো হয়েছে এই আর্টিকেলটিতে।

বাচ্চাদের আমাশয়ের লক্ষণ ও উপসর্গ

বাচ্চাদের আমাশয় হলে কি খাওয়া উচিত

এন্টামিবা হিস্টোলাইটিকা পরজীবীর সংক্রমনের কারণে আমাশয় হলে তাকে অ্যামিবিক আমাশয় বলে। শিগেলা ব্যাকটেরিয়া সংক্রমনের কারণে আমাশয় হলে তাকে শিগেলাসিস বা ব্যাসিলারি আমাশয় বলে। অ্যামিবিক আমাশয় ও ব্যাসিলারি আমাশয়ের লক্ষণগুলোর মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে।

১ থেকে ৫ বছর বয়সী বাচ্চাদের শিগেলা ও সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়া দিয়ে আমাশয় হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। সংক্রমণ ঘটার ২ থেকে ১০ দিনের মধ্যে ব্যাসিলারি আমাশয়ের লক্ষণগুলো দেখা দেয়।

ব্যাসিলারি আমাশয় হলে লক্ষণ

  • ঘন ঘন মল ত্যাগ
  • মলের সাথে রক্ত থাকতে পারে
  • শরীরে হঠাৎ জ্বর আসে
  • পেট গ্যাস জমে ফেঁপে যায়
  • ক্ষুধামান্দ্য ও ওজন কমে যেতে পারে
  • ক্লান্তি
  • বমি বমি ভাব বা বমি
  • মারাত্মক অবস্থায় ডিহাইড্রেশন

অ্যামিবিক আমাশয় হলে লক্ষণ

  • ক্র্যাম্পিং বা পেটে ব্যথা
  • ঘন ঘন মলত্যাগ
  • মলের সাথে মিউকাস বা আম থাকে
  • বমি বমি ভাব

বাচ্চাদের আমাশয় রোগে পেটে ব্যথা, ডায়রিয়া, বমি বমি ভাব বা বমি কমন লক্ষণ। বাচ্চারা খেতে চাইবে না এবং দুর্বল হয়ে যাবে। বাচ্চাদের আমাশয় হলে ডাক্তার দেখানো উচিত।

বাচ্চাদের আমাশয় হলে কি খাওয়া উচিত

আমাশয় হলে বাবা-মা বাচ্চাদের কোন খাবার গুলো খেতে দিবেন তা নিয়ে চিন্তিত থাকে। এসময়ে কোন খাবার খেতে দিলে বাচ্চাদের আমাশয় কমবে বিষয়টি অনেকেই জানতে চায়। অনেক খাবার আমাশয়ের সমস্যা বাড়িয়ে তুলতে পারে। তবে মনে রাখবেন ৬ মাস বয়স পর্যন্ত শিশুকে শুধু বুকের দুধ খাওয়াতে হবে।

আরও পড়ুন পুরুষের প্রস্রাবের রাস্তায় জ্বালাপোড়া কেন হয়।

বাচ্চাদের খাবারের ব্যাপারে এই সময়ে সতর্ক থাকতে হবে। বেশিরভাগ শিশু বিশেষজ্ঞরা এসময় ব্র্যাট ডায়েট খেতে দিতে বললেন। ব্র্যাট ডায়েট হল ব্লান্ড-ফুড ডায়েট বা কলা, চাল, আপেল সস এবং টোস্ট। ব্র্যাট ডায়েট সহজে হজম হয় এবং আমাশয় হতে দ্রুত আরোগ্য পেতে সাহায্য করে।

কলা: কলা প্রচুর পরিমাণে পটাসিয়াম, আয়রন ও ফাইবার সরবরাহ করে। এক দুইটা কলা বাচ্চাদের আমাশয়ে খাওয়াতে পারেন।

জাউ ভাত: নরম জাউ ভাত খুব সহজে হজম হয়। ভাতের স্টার্চ শিশুদের শরীরে শক্তির যোগান দেয়। ফলে শিশুরা সহজে দুর্বল হয় না। জাউ ভাতের সাথে দই শিশুর আমাশয় নিরাময়ে খুব সহায়ক।

আপেল: এই সময়ে প্রচুর পরিমাণে খনিজ লবণ শরীর থেকে বের হয়ে যায়। খনিজ লবণ সমৃদ্ধ খাবারগুলো খেলে এর ঘাটতি পূরণ হবে। আপেলে থাকে ভিটামিন, ফাইবার ও মিনারেল বা খনিজ লবণ।

আপেলে থাকা ফাইবার হলো দ্রবণীয় ফাইবার যা আমাশয় ও ডায়রিয়াতে স্টুলকে শক্ত করে। আপেলের ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুলো রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে দ্রুত আমাশয় নিরাময়ে সাহায্য করে।

টোস্ট: টোস্ট একটি বাইন্ডিং খাবার যা মল শক্ত করে। বাচ্চাদের আমাশয় এক বাটি দই দিয়ে টোস্ট খেতে দিন।

টক দই ও বাটার মিল্ক: এগুলো প্রোবায়োটিক খাবার। প্রোবায়োটিক খাবারে হজমে সাহায্যকারী ব্যাকটেরিয়া থাকে। বাচ্চাদের টক দই খাওয়ালে হজম শক্তি বৃদ্ধি পাবে এবং পেটের অস্বস্তি কমবে।

ডাবের পানি: ডাবের পানি হচ্ছে ন্যাচারাল খাবার স্যালাইন। কারন ডাবের পানিতে পটাসিয়াম, সোডিয়াম এবং গ্লুকোজ থাকে, এই মিনারেল গুলো ডায়রিয়া অথবা আমাশয়ে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। এই সময়ে ডাবের পানি পান করলে শিশুর পানি শূন্যতা ও খনিজ লবণের ঘাটতি পূরণ হবে।

সিদ্ধ আলু: আমাশয়ে শিশুদের জন্য আরেকটি উপযুক্ত খাবার হল সিদ্ধ আলু। আলু সহজে হজম হয় এবং এর শর্করা শক্তির যোগান দেয়।

তরল খাবার: পানি শূন্যতা যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। বেশি বেশি তরল খাবার যেমন: ডাবের পানি, লেবুর শরবত, খাবার স্যালাইন পানি শূন্যতা প্রতিরোধ করে।

যা খাওয়া নিষেধ

হজমে সমস্যা করে এমন খাবার নিষেধ। যেমন: দুধ, মিষ্টি দই, ফলের জুস, এনার্জি ড্রিংকস, তেল চর্বিযুক্ত ভাজাপোড়া খাবার। দুধ, এনার্জি ড্রিংকস ও ফলের রস তরল খাবার হলেও পানি শূন্যতা পূরণে এগুলো খাওয়া যাবে না। ডায়রিয়া বা আমাশয়ে এগুলো খেলে পেটে সমস্যা আরও গুরুতর হতে পারে।

বাচ্চাদের আমাশয় হলে করণীয়

যেহেতু আমাশয় জীবাণুর কারণে হয় তাই শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। যথাযথ ব্যবস্থা নিলে আমাশয় প্রতিরোধ করা যায়। পানিশূন্যতা পূরণ, জিঙ্ক গ্রহণ, উপযুক্ত খাবার ও সঠিক পুষ্টি মান নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে বাচ্চাদের আমাশয় দ্রুত সেরে উঠে।

বাচ্চাদের আমাশয় বিষয়ে কিছু প্রশ্নোত্তর

আমাশয়ের প্রধান কারণ কি?
আমাশয়ের প্রধান কারণ হলো ব্যাকটেরিয়া ও পরজীবীর সংক্রমণ। সাধারণত এন্টামিবা হিস্টোলাইটিকা নামের পরজীবী ও শিগেলা নামের ব্যাকটেরিয়া পেটে প্রবেশের ফলে আমাশয় হয়। দুর্বল স্বাস্থ্যবিধির কারনে এই জীবাণু সংক্রমণের সুযোগ পায়।

বাচ্চাদের আমাশয় কয়দিন থাকে?
উপযুক্ত চিকিৎসা ও ব্যবস্থা নিলে ৩ থেকে ৭ দিনের মধ্যে সুস্থ হয়ে যায়।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *