মিল্ক শেক এর উপকারিতা, অপকারিতা এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।

আমরা অনেকেই মিল্ক শেক এর নাম শুনেছি। এটি এক ধরনের তরল খাবার। কেউ কেউ মনে করে মিল্ক শেক খেলে ওজন বাড়ে এবং মোটা হওয়া যায়। কেউ আবার মনে করে মিল্ক শেখ খেলে শক্তি বাড়ে। আসলে মিল্ক শেক কি প্রচুর পুষ্টিতে ভরপুর। তাছাড়া মিল্ক শেক এর কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া আছে কিনা বিষয়টাও জানা জরুরী। যারা মোটা হতে চান তাদের জন্য ওয়েট গেইন মিল্ক শেক কতটুকু নিরাপদ ও কার্যকর সেটা জানাও খুব দরকার।

বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির মিল্ক শেক পাওয়া যায়। তবে আপনি চাইলে ঘরেই বানাতে পারেন পছন্দের সব উপাদান দিয়ে। প্রিয় পাঠকগণ আজ এই পোস্টে থাকছে মিল্ক শেক বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

মিল্ক শেক কি?

মিল্ক শেক হল এক ধরনের মিষ্টি বেভারেজ বা পানীয়। যা দুধ চিনি বা অন্যান্য মিষ্টি জাতীয় খাবার যেমন: বাটারস্কচ, ক্যারামেল সস, চকলেট সিরাপ, ফলের জুস, ফল, বাদাম দিয়ে বানানো হয়। খুব সহজে বাড়িতেই মিল্ক শেক বানানো যায়। বাড়িতে মিল্ক শেক বানালে এর পুষ্টিগুণ নিয়ে কোন সন্দেহ থাকে না।

মিল্ক শেক এর উপকারিতা, অপকারিতা এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।

বর্তমানে অনেক দোকানে মিল্ক শেক পাওয়া যায়। তাছাড়া অনলাইন থেকে মিল্ক শেক কেনা যায়। হাতে সময় থাকলে ব্লেন্ডার মেশিন দিয়ে বাড়িতেই বানিয়ে নিন আপনার পছন্দের ফলের জুসের ফ্লেভারে মিল্ক শেক।

মিল্ক শেক এর পুষ্টিগুণ

মিল্ক শেক এর পুষ্টিগুণ একেবারে নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। বানানোর সময় কোন উপকরণ কতটুকু পরিমাণে মেশানো হয়েছে তার উপর নির্ভর করে মিল্ক শেক এর মোট পুষ্টি। যেমন: চিনি বাড়ানো হলে শর্করা বাড়বে। ভিটামিন, মিনারেল ও ফাইবারের পরিমাণ নির্ভর করবে কোন ফলের জুস কতটুকু মেশানো হয়েছে তার উপর।

দোকানে পাওয়া যায় প্যাকেট মিল্ক শেক।‌ প্যাকেটের গায়ে লেখা থাকে কোন কোন উপকরণ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি নিউট্রেশন ভেল্যু বা পুষ্টির মান সম্পর্কেও প্যাকেটের গায়ে লেখা থাকে। কেনার আগে এগুলো দেখে শুনে নেয়া ভালো।

মিল্ক শেক এর উপকারিতা

মিল্ক শেক একটি স্বাস্থ্যকর খাবার যখন ন্যাচারাল উপকরণ দিয়ে তৈরি করা হয়। বিশেষ করে বাসায় তৈরি করা হলে। চিনি বা কৃত্রিম রং স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এগুলো কোন খাবারে মেশালে সেটাকে আর স্বাস্থ্যকর খাবার থাকে না। বাজারে যে মিল্ক শেক পাওয়া যায় সেগুলো কতটা নিরাপদ বা স্বাস্থ্যকর তা একজন ডায়েটিশিয়ানের কাছ থেকে জেনে নিন।

যাইহোক এখানে ঘরে বানানো মিল্ক শেক এর উপকারিতা তুলে ধরা হল।

দুধে ক্যালসিয়াম থাকে যা আমাদের হাড় মজবুত করা সহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকে। দুধে থাকে কেসিন প্রোটিন যা শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় একটি পুষ্টি। আমাদের শরীরের জন্য যে পুষ্টি প্রয়োজন অল্প পরিমাণে হলেও তার অনেক গুলো দুধে পাওয়া যায়।

সব ফ্যাট খারাপ নয়। দুধে হয়েছে হেলদি ফ্যাট, এই ফ্যাট শরীরের জন্য উপকারী। বিশেষ করে শীতকালে শরীর উষ্ণ রাখতে সাহায্য করে দুধের ফ্যাট। এককথায় মিল্ক শেক খেলে দুধের সম্পুর্ন পুষ্টি পাবেন।

আরও পড়ুন শিশুর নেবুলাইজার ব্যবহারের নিয়ম।

মিল্কশেকের শর্করাতে কোন সমস্যা নেই যদি অতিরিক্ত চিনি না মেশানো হয়। ফলের জুস থেকে পাবেন ফ্রুক্টোজ যা শরীরকে দ্রুত এনার্জি দিবে। তাছাড়া ফলের ভিটামিন-সি, ভিটামিন-এ ও অন্যান্য ভিটামিন, খনিজ এবং ফাইবার শরীরকে সুস্থ রাখতে প্রয়োজন যা মিল্ক শেক থেকে পাবেন।

বাদাম মিল্ক শেক স্বাস্থ্যের জন্য আরো ভালো। আপনার পছন্দ মত যেকোন বাদাম দিয়ে দিন। কাজু বাদাম, পেস্তা বাদাম, চিনা বাদাম বা কাঠ বাদাম যা আপনার পছন্দ। বাদাম যোগে মিল্ক শেক হবে বেশি সুস্বাদু ও পুষ্টিকর।

মিল্ক শেক এর উপকারিতা সম্পর্কে এককথায় বললে, কৃত্রিম মিষ্টি, চিনি, ফ্যাট বা রং না দিলে এটি হবে দারুন পুষ্টিকর ও সুস্বাদু খাবার।

মিল্ক শেক এর অপকারিতা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

মিল্ক শেক এর তেমন কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। তবে কিছু বিষয়ে আপনাকে সাবধান থাকতে হবে। যেমন: ব্যানানা মিল্ক শেক স্বাস্থ্যের পক্ষে উপকারের চাইতে ক্ষতি বেশি। দুধ কলা একসাথে খাওয়ার কারণে হতে পারে বদহজম। তাছাড়া ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স থাকলে গরুর দুধে পেটে সমস্যা হয়। এমন ব্যাক্তির গরুর দুধের মিল্ক শেক এড়িয়ে চলতে হবে।

সাধারণত প্যাকেট মিল্ক শেক এর সাথে বেশি চিনি থাকে। যা খেলে পেটে গ্যাস ও বুক জ্বালা পোড়া করতে পারে। ডায়াবেটিস বাড়তে পারে মিল্ক শেক খাওয়ার কারণে যাদের ডায়াবেটিস আছে। প্যাকেট মিল্ক শেকেতে  থাকে প্রচুর ক্যালরি। বেশি বেশি খেলে শরীরে ফ্যাট জমতে পারে।

মিল্ক শেক এর দাম

অনেকেই প্যাকেট মিল্ক শেক এর দাম জানতে চায়। আসলে দোকানে বিভিন্ন ধরনের মিল্ক শেক পাওয়া যায়। সবগুলোর দাম এক নয় আবার এদের ফ্লেভার ভিন্ন। মিল্ক শেক প্রস্তুত কারক কোম্পানি গুলো কখনো কখনো দামের পরিবর্তন করে। সবচেয়ে ভালো হয় আপনি প্যাকেটের গায়ের মূল্য দেখে নিলে। ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায় ১ প্যাকেট মিল্ক শেক কিনতে পারবেন।

মিল্ক শেক খেলে কি ওজন বাড়ে?

শরীরের ওজন কম হওয়ার পেছনে নানা কারণ রয়েছে। এই বিষয়ে একজন ডাক্তার বা ডায়েটিশিয়ানের সাথে পরামর্শ নিন। ওজন বাড়াতে মিল্ক শেক এর উপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত হবে না। কেননা অতিরিক্ত পরিমাণে মিল্ক শেক গ্রহণ শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

স্বাভাবিক সব ধরনের খাবার খেতে হবে। পুষ্টি চাহিদা পূরণে মিল্ক শেক খেতে পারেন। তবে একে ওজন বাড়ানোর কোন সাপ্লিমেন্ট মনে করার কোন কারণ নেই। ওজন বাড়াতে চাইলে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেয়া উচিত।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *