হাইপার থাইরয়েডিজম থেকে মুক্তির উপায়।

হাইপারথাইরয়েডিজম হলো থাইরয়েড গ্রন্থির অতিরিক্ত থাইরক্সিন হরমোন উৎপাদনের কারণে সৃষ্ট রোগ। তাই হাইপারথাইরয়েডিজম সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে হলে থাইরয়েড গ্রন্থি ও থাইরয়েড হরমোন কি এই দুটি বিষয় সম্পর্কেও স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে।

থাইরয়েড হলো একটি অন্তক্ষরা গ্রন্থি যা গলায় অবস্থিত। থাইরয়েড গ্রন্থিটি দুটি লোব নিয়ে গঠিত এবং দেখতে অনেকটা প্রজাপতির মতো। থাইরয়েড গ্রন্থি থাইরয়েড হরমোন নামের একধরনের হরমোন উৎপন্ন করে। থাইরয়েড হরমোনের রয়েছে ট্রাইডোথাইরোনাইন,থাইরক্সিন, আয়োডিন ও টাইরোসিন নামক উপাদান। 

থাইরয়েড হরমোন আমাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে এবং বিপাক প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। কিন্তু থাইরয়েড গ্রন্থি যদি আমাদের দেহের জন্য প্রয়োজনের চেয়ে কম বা বেশি হরমোন নিঃসরণ করে তাহলে সেটা দেহে নানা সমস্যা তৈরি করে। থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে দেহের জন্য প্রয়োজনের চেয়ে বেশি থাইরয়েড হরমোন নিঃসৃত হলে তাকে হাইপারথাইরয়েডিজম বলে। আর থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে দেহে জন্য প্রয়োজনের চেয়ে কম হরমোন নিঃসৃত হলে তাকে হাইপোথাইরয়েডিজম বলে।

একথা স্পষ্ট যে, হাইপোথাইরয়েডিজম বা হাইপারথাইরয়েডিজম হলো হরমোনের সমস্যা জনিত রোগ এবং রোগটিকে ডায়াবেটিস এর পর পর স্থান দেওয়া হয়েছে।

হাইপার থাইরয়েডিজম থেকে মুক্তির উপায়।

হাইপারথাইরয়েডিজম এর লক্ষণ

হাইপারথাইরয়েডিজমের কারণে থাইরোটক্সিসিস হয়। এমতাবস্থায় আক্রান্ত ব্যাক্তির দেহে কয়েকটি লক্ষণ প্রকাশ পায়। এই লক্ষণগুলোর মাধ্যমে হাইপারথাইরয়েডিজম সনাক্ত করা হয়। তবে সবার ক্ষেত্রে একই রকম লক্ষণ প্রকাশ নাও পেতে পারে। তাই হাইপারথাইরয়েডিজম নির্নয় করার জন্য ল্যাবটেস্টের প্রয়োজন হতে পারে। হাইপারথাইরয়েডিজম এর লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ 

  • ঘাম বেড়ে যাওয়া
  • সর্বদা উদ্বিগ্ন থাকা
  • ওজন কমে যাওয়া
  • অল্পতেই ঘাবড়ে যাওয়া 
  • মেজাজ খিটখিটে হওয়া
  • হার্টবিট বা হৃদস্পন্দন দ্রুত হওয়া (বুক ধড়ফড় করা)
  • মহিলাদের ক্ষেত্রে অনিয়মিত মাসিক
  • অন্ত্রের গতি বেড়ে যায় যার ফলে ডায়রিয়া হয়।
  • হাত পায়ে কম্পন অর্থাৎ অনইচ্ছাকৃতভাবে হাত পায়ে কাঁপন।

আরও পড়ুন থাইরয়েড রোগীর খাবার তালিকা। থাইরয়েড কমানোর খাবার।

হাইপার থাইরয়েডিজম থেকে মুক্তির উপায়।

হাইপারথাইরয়েডিজম এর চিকিৎসা-
আমাদের দেশে হাইপারথাইরয়েডিজম এর চিকিৎসা সাধারণত তিনধরনের হয়ে থাকে। প্রথমে ওষুধ দিয়ে রোগীর চিকিৎসা করা হয়। নিয়মিতভাবে ১৮ মাস ওষুধ সেবনে অনেক হাইপারথাইরয়েডিজম রোগী ভালো হয়ে যায়। তবে কখনো কখনো ১৮ মাস ওষুধ সেবন করার পর আবার ১৮ মাস ওষুধ সেবনের প্রয়োজন হতে পারে। 
পরবর্তী পর্যায় হলো থেরাপি এবং সবশেষ চিকিৎসা পদ্ধতি হলো সার্জারী বা অপারেশন। 

হাইপারথাইরয়েডিজম রোগীর খাবার। 

যেসব খাবার খেলে থাইরয়েড গ্রন্থি ভালো থাকে সেগুলো খেতে হবে এবং যে সব খাবার থাইরয়েড জটিলতা বৃদ্ধি করে সেগুলো বাদ দিতে হবে।
 
১. মাছ,মাংস, টার্কি,মুরগীর ডিম ও মিষ্টিকুমড়ার বীচিতে প্রচুর পরিমানে টাইরোসিন রয়েছে। থাইরয়েড গ্রন্থিকে ভালো রাখতে এই খাবারগুলো খেতে হবে। 
২. থাইরয়েড জনিত সমস্যায় গয়ট্রোজেনাস জাতীয় খাবারগুলো খাওয়া যাবে না। এই জাতীয় খাবারগুলোর মধ্যে রয়েছে ফুলকপি, বাধাঁকপি,চিনাবাদাম, সায়াসস ইত্যাদি। তবে সবধরনের সবজি ভালোভাবে রান্নাকরে খেতে হবে। 
৩.রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ঠিক রাখতে গ্লুটেন প্রোটিনযুক্ত খাবারগুলো খেতে হবে। আর এজন্যই গম,শস্যদানা,যব, বার্লি খেতে হবে। 
৪.থাইরয়েড হরমোন আমাদের বিপাকে সাহায্য করে। তাই থাইরয়েড গ্রন্থি ও লিভারকে সুস্থ রাখতে বেশি করে ফ্যাটিঅ্যাসিড যুক্ত খাবারগুলো খেতে হবে। তৈলাক্ত মাছ,কাঁচা বাদাম ও অলিভওয়েল ফ্যাটিঅ্যাসিড যুক্ত খাবারগুলোর অন্তর্ভুক্ত। 
৫.আয়োডিনযুক্ত খাবার ও আয়োডিনযুক্ত লবণ খেতে হবে। 

সারসংক্ষেপ- যেহেতু থাইরয়েডের সমস্যা একটি হরমোনজনিত সমস্যা তাই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করা উচিৎ। এই আর্টিকেলটিতে থাইরয়েড গ্রন্থিকে ভালো রাখার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। সঠিকভাবে রোগ নির্নয় ও রোগমুক্তির জন্য ডাক্তারের নির্দেশ মেনে চলতে হবে, ধন্যবাদ।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *