সোলার প্যানেল এর দাম ২০২৪

বিদ্যুতের সমস্যা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে সৌরবিদ্যুৎ। সোলার প্যানেলের সাহায্যে তৈরি হয় ইলেকট্রিসিটি। তাই সোলার প্যানেল এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। মার্কেটে রয়েছে বিভিন্ন কোয়ালিটির সৌর প্যানেল। এদের দাম আজকের পোস্টের মূল বিষয়।

জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় বর্তমান বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশ নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে ঝুঁকছে। তেমনই একটি নবায়নযোগ্য শক্তি হচ্ছে সৌরশক্তি। সূর্যের আলোকে ব্যবহার করে তৈরি করা হয় বিদ্যুৎ। এই বিদ্যুতকে বলা হয় সৌর বিদ্যুৎ। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো যদি একবার টাকা খরচ করে সোলার প্লান্ট স্থাপন করেন তাহলে ২৫ বছর পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে।

যে যন্ত্র সূর্যের আলোকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে তাকে সোলার প্যানেল বলা হয়। অর্থাৎ সোলার প্যানেলের কাজ হল সূর্যের আলোকে সরাসরি বিদ্যুতে পরিনত করা। সৌর বিদ্যুৎ পেতে প্রথমে আপনার একটা সোলার প্যানেল লাগবে। সোলার প্যানেল হতে উৎপন্ন বিদ্যুৎ সরাসরি অথবা ব্যাটারি চার্জ করে পরবর্তীতে ব্যবহার করা যাবে।

আপনার দৈনিক কতটুকু বিদ্যুৎ প্রয়োজন তার ভিত্তিতে সোলার প্যানেল কিনতে হবে। শহর অঞ্চলের বাসা বাড়িতে ১ কিলোওয়াট থেকে ১০ কিলোওয়াট পর্যন্ত সোলার প্লান্ট স্থাপন করতে দেখা যায়। গ্রাম অঞ্চলে সাধারণ এক কিলোওয়াট বা তার চেয়ে কম ওয়াটের সোলার সিস্টেম বেশি। চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন ওয়াট সোলার প্যানেল এর দাম এই পোস্টে জানানো হয়েছে।

সোলার প্যানেল এর দাম

সোলার প্যানেল এর দাম

ওয়াট যত বেশি হবে প্যানেল এর দাম তত বাড়বে। আমাদের দেশে বিভিন্ন কোম্পানির সৌর প্যানেল পাওয়া যায়। এগুলো বিভিন্ন দামের হয়ে থাকে। আসুন এক এক করে এগুলোর দাম জেনে নেয়া যাক।

গ্রামীণ শক্তি সোলার প্যানেল এর দাম

গ্রামীণ শক্তি বাংলাদেশে একটি পরিচিত সোলার প্যানেল কোম্পানি। এটি মানে ভালো, টেকসই এমন একটি বিশ্বস্ত ব্রান্ড। এই প্যানেলগুলো মার্কেটে সাশ্রয়ী দামে পাওয়া যায় চাইলে কিনতে পারেন। গ্রামীণ শক্তির ছোট বড় বিভিন্ন সাইজের সোলার প্যানেল রয়েছে।

১ ওয়াট গ্রামীণ শক্তি সোলার প্যানেলের মূল্য ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। স্থান ও দোকান ভেদে এই দামের কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে। তাই কেনার আগে দোকানদার থেকে দাম জেনে নিন। ১০০ ওয়াট গ্রামীণ শক্তি সোলার প্যানেলের দাম পরবে ৪৫০০ টাকা থেকে ৫০০০ টাকা। ১ কিলোওয়াট বা ১০০০ ওয়াট এর দাম পরবে ৪৫০০০ থেকে ৫০০০০ হাজার টাকা।

সুপার স্টার সোলার প্যানেলের দাম

ভালো কোয়ালিটির সোলার প্যানেল হিসেবে সুপার স্টার বেশ পরিচিত। এই ব্র্যান্ডের প্যানেলগুলো ভালো আউটপুট দেয়। ২০ বছরের ওয়ারেন্টি থাকায় নিশ্চিন্তে ব্যবহার করতে পারবেন। ভালো সার্ভিস পাওয়া যায় তাই অনেকেই সুপার স্টার সোলার ব্যবহার করছে।

১ ওয়াট সুপার স্টার সোলার প্যানেলের দাম ৬৫ টাকা। ২০০ ওয়াটের দাম ১৩,০০০ টাকা, ৫০০ ওয়াটের দাম ৩২,৫০০ টাকা এবং ১ কিলোওয়াট এর দাম ৬৫,০০০ টাকা।

জেনেটিক সোলার প্যানেলের দাম

এখন আমরা জানবো জেনেটিক ব্র্যান্ডের সোলার প্যানেল সম্পর্কে। জেনেটিক সোলার প্যানেল বর্তমানে অনেকেই ব্যবহার করছে। অনেক বাসা বাড়িতে এই প্যানেল ব্যবহার করতে দেখা যায়। সঠিক আউটপুট ও ভালো কোয়ালিটির এই প্যানেলের সাথে থাকছে ২৫ বছরের ওয়ারেন্টি।

আরো পড়ুন ১০০০ ওয়াট সোলার প্যানেলের দাম

প্রতি ওয়াট ৫৫ টাকা করে ১০০ ওয়াট জেনেটিক সোলার প্যানেলের মূল্য ৫৫০০ টাকা। ২০০ ওয়াট ১১০০০ টাকা, ৫০০ ওয়াট ২৭৫০০ টাকা এবং ১ কিলোওয়াট ৫৫,৫০০ টাকা।

জার্মান টেলসান সোলার প্যানেলের দাম

জার্মান টেলসান ব্রান্ডের সোলার প্যানেল খুব হাই কোয়ালিটি সম্পন্ন। মেঘলা আকাশ, সকাল এবং সূর্যাস্তের কম আলোতে পর্যন্ত ভালো আউটপুট দেয়। আসলে জার্মান টেলসান বিশ্ব বাজারে একটি পরিচিত ও জনপ্রিয় ব্রান্ড। বাংলাদেশে এর ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে।

বিশেষ করে যারা এসি সোলার সিস্টেম প্লান্ট করে তাদের জার্মানির তৈরি উন্নত মানের সোলার প্যানেল ব্যবহার করতে দেখা যায়। ২৪ ভোল্টের ৫৫০ ওয়াট টেলসান সোলার প্যানেলের মূল্য প্রায় ৩০,২৫০ টাকা। প্রতি ওয়াটের দাম পরছে ৫৫ টাকা। তাহলে ১ কিলোওয়াট এর জন্য আপনার খরচ হবে ৬০,৫০০ টাকা।

30 ওয়াট মিনি সোলার প্যানেল

ছোট ইলেকট্রিক ডিভাইস ব্যবহার বা চার্জ করা যায় মিনি সোলার প্যানেল দিয়ে। বিদ্যুৎ নেই এমন জায়গাতে বেড়াতে গেলে মোবাইল বা ইলেকট্রিক ডিভাইস চালাতে মিনি সৌর প্যানেল একদম পারফেক্ট। অতিরিক্ত তার বা ক্যাবল এর প্রয়োজন নেই। প্যানেলের সাথে যুক্ত ইউএসবি সোলার চার্জার দিয়ে চার্জ করা যায়। ৩০ ওয়াট সোলার প্যানেলের দাম পড়বে ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা।

সোলার প্যানেল কোনটা ভালো

কেনার আগে জানা দরকার কোন সোলার প্যানেলের সার্ভিস ভালো। মনোক্রিস্টালাইন না পলিক্রিস্টালাইন কোনটা ভালো হবে, এদের বেসিক পার্থক্য কি এবং এদের সুবিধা অসুবিধা এখানে জানানো হয়েছে। এই দুই ধরনের সোলার প্যানেলের গঠনগত পার্থক্য রয়েছে। পলিক্রিস্টালাইন সোলার প্যানেল তৈরি হয় মাল্টি ক্রিস্টাল সিলিকন দিয়ে। মনোক্রিস্টালাইন সোলার প্যানেল বানানো হয় একক ক্রিস্টাল সিলিকন দিয়ে।

এদের মধ্যে কালারের কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। মনো সোলার প্যানেল কালো রঙের হয়। আর পলি সোলার প্যানেল দেখতে অনেকটা নীল রঙের বা কালচে নীল দেখায়। মনো সোলার প্যানেলের ইফিসিয়েন্সি পলি সোলার প্যানেলের চেয়ে কিছুটা বেশি হয়। পর্যাপ্ত সূর্যালোকে এই দুই ধরনের সৌর প্যানেলের ইফিসিয়েন্সি প্রায় একইরকম। তবে সূর্যালোক কম থাকলে পলিক্রিস্টালাইন সৌর প্যানেলর ইফিসিয়েন্সি কমে যায়।

আমাদের দেশে শীতকালে কুয়াশা থাকে, বর্ষাকালে মেঘলা আকাশ, সকাল ও বিকালে বাড়িতে গাছের ছায়া। তাই মনোক্রিস্টালাইন সোলার প্যানেল ব্যবহারে ভালো সুবিধা পাওয়া যাবে। আপনি যদি সোলার প্যানেল কিনবেন তাহলে মনোক্রিস্টালাইন কিনুন স্বল্প আলোতে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে।

আমাদের শেষ কথা

যারা সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহারে আগ্রহী হচ্ছে তাদের জন্য এই পোস্টটি উপকার আসবে বলে আশা রাখি। এই পোস্টটিতে উল্লেখিত সোলার প্যানেল থেকে আপনার সুবিধা মত যে কোনটি কিনতে পারেন। সোলার প্যানেলের দাম পরিবর্তিত হতে পারে। কেনার আগে অবশ্যই দাম জেনে নিবেন। সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে আজ এখানেই শেষ করছি।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *