সালাম ও সালামের উত্তর দেওয়ার নিয়ম ,সালামের সামাজিক গুরুত্ব ও ফজিলত।

সালাম দিলে সওয়াব পাওয়া যায়। যিনি আগে সালাম দেবেন তার সওয়াব বেশি। আগে সালাম দিলে অহংকার দূর হয়। সালাম দেওয়া একটি সুন্নাত আমল। কিন্তু সালামের উত্তর নেওয়া ওয়াজিব। সালামের উত্তর না দিলে গুনাহ হবে। শব্দ করে সঠিকভাবে উচ্চারণ করে সালামের উত্তর দিতে হবে। আর্টিকেলটি মূলত সালামের গুরুত্ব, নিয়ম, সালামের অর্থ অর্থাৎ সালাম সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ের উপর লেখা হয়েছে। হয়তো সালাম সম্পর্কে আপনার অজানা তথ্য এই আর্টিকেলে খুঁজে পেতে পারেন তাই আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন।

সালাম কি?

সালাম ও সালামের উত্তর দেওয়ার নিয়ম
আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহু একটি আরবি শব্দ। যা একটি অভিবাদনসূচক বাক্যাংশ। একজন মুসলিম ভাইয়ের সাথে অন্য কোন মুসলিম ভাইয়ের দেখা হলে এই বাক্যটি বলে অর্থাৎ সালাম দেয়। যে মুসলিম ভাইকে উদ্দেশ্য করে সালাম দেওয়া হয়েছে তার জন্য সালামের উত্তর নেওয়া ওয়াজিব। সালামের উত্তর হল ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহু। 

সালামের অর্থ কি?

সালাম এর মধ্যে সর্বোত্তম হলো আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহু পর্যন্ত বলা। আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহু এর অর্থ হলো আল্লাহর তরফ থেকে আপনার উপর শান্তি, রহমত এবং বরকত বর্ষিত হোক। আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি আরবি শব্দের অর্থ হলো আল্লাহর তরফ থেকে আপনার উপর শান্তি এবং রহমত বর্ষিত হোক। আস-সালামু আলাইকুম শব্দের অর্থ হলো আল্লাহর তরফ থেকে আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।

আরো পড়ুন: আ দিয়ে মেয়েদের ইসলামিক নাম ২০২৪ অর্থসহ তালিকা।

আস-সালামু আলাইকুম এতোটুকু বললেই সালাম আদায় হয়ে যাবে তবে সর্বোত্তম হলো আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহু পর্যন্ত বলা।

সালামের উত্তর এর অর্থ কি?

সালামের উত্তর হল ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহু। যার অর্থ আল্লাহর তরফ থেকে আপনার উপরও শান্তি ,রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি অর্থ হল আল্লাহর তরফ থেকে আপনার উপরেও শান্তি ও বর্ষিত হোক। ওয়া আলাইকুমুস সালাম এর অর্থ হলো আল্লাহর তরফ থেকে আপনার উপরেও শান্তি বর্ষিত হোক।

সালামের ৯ টি ভুল

সালাম সহজে পালনযোগ্য একটি ইবাদত। সালামের অফুরন্ত সওয়াবের কথা হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। অথচ এই ছোট আমলটি করতে গিয়ে আমরা নয় নয়টি ভুল করে থাকি। সালামকে কেন্দ্র করে আমাদের সচরাচর যে ভুলগুলো হয়ে থাকে তাদের মধ্যে
  • সর্বপ্রথম ভুলটি হল সালাম দিতে অহংকার বোধ করা। হাদিসে আছে যিনি সর্বপ্রথম সালাম দিয়ে দেন তিনি অহংকার থেকে মুক্ত।
  • দ্বিতীয় যে ভুলটি হয়ে থাকে তাহলো বিকৃত ও অশুদ্ধ উচ্চারণে সালাম দেওয়া। তাই আমাদের শুদ্ধ করে ভালোভাবে সালাম দেয়ার চেষ্টা করতে হবে।
  • তৃতীয় যে ভুলটি হয় সেটা হল অনেকে সালামের উত্তর না দিয়ে মাথা নেড়ে সায় দিয়ে থাকেন। কেউ আপনাকে মুখ দিয়ে সালাম দিলে আপনাকেও মুখে এবং শুনিয়ে সালাম এর পাল্টা জবাব দিতে হবে। সালাম দেওয়া সুন্নত হলেও সালামের উত্তর নেওয় কিন্তু ওয়াজিব। সালামের জবাব না দিলে অথবা শুধু মাথা নেড়ে সায় দিলে সেটা গুনাহের কারণ হবে।
  • চতুর্থ যে ভুলটি হয়ে থাকে তা হল আমরা অনেকই চেনাজানা লোকদের শুধু সালাম দিয়ে থাকি। অথচ কারো সাথে দেখা হলে অথবা কথা বলার পূর্বে যদি লোকটি পরিচিত বা‌ অপরিচিত হোক সালাম দেওয়া উচিত।
  • পঞ্চম যে ভুলটি হল আমারা অনেকেই পরিবারের সদস্যদের সালাম দেই না। অর্থাৎ পরিবারের সদস্যদের সালাম দিতে ইতঃস্তত বোধ করা। অথচ সালাম হলো শান্তি দোয়া। এই দোয়াটা পরিবারের সদস্যদের জন্য করা উচিত ইতস্তত বোধ করা উচিত নয়।
  • সালাম সংক্রান্ত ৬নম্বর ভুলটি হল সালাম এর ধারাবাহিকতা খেয়াল না করা। যে ব্যক্তি আগন্তুক তার আগে সালাম দেওয়া উচিত‌। কোন ব্যক্তি বসে থাকলে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তি আগে সালাম দেওয়া উচিত। এইটা হল সালাম এর ধারাবাহিকতা। বসে থাকা ব্যক্তি আগে সালাম দিলেও কোন সমস্যা নেই। সবচেয়ে উত্তম হলো সালাম এর ধারাবাহিকতা রক্ষা করা।
  • সালাম সম্পর্কে একটি ভুল ধারনা হলো পা ছুয়ে সালাম করা। আমরা অনেকেই মনে করি শশুর বাড়ির লোকজনকে, শিক্ষক অথবা শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি কে পা ছুয়ে সালাম করতে হয়। এটি একটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। মূলত সালাম একটি ইবাদত যা  মুখে উচ্চারণ করে পালন করতে হয় এবং লিখে কারো কাছে পৌঁছানো যায়। পা ছুয়ে সালাম করা অপসংস্কৃতি একটা অংশ।
  • অট নাম্বার যে ভুলটি হয় তা হলো হাত তুলে সালাম দেওয়া। অভ্যাসবশত মুখ দিয়ে সালাম দেওয়ার পাশাপাশি অনেকেই হাত তোলে থাকেন। হাত তোলা সালাম এর সাথে সম্পৃক্ত কোনো বিষয় নয়। সালাম মুখে উচ্চারণ করলেই হবে হাত তোলার কোন প্রয়োজন নাই। তবে দ্রুত হেঁটে যাওয়া অথবা দূরের কোনো ব্যক্তিকে সালাম দিলে সে শুনতে পাবেনা বলে মনে হলে মুখে উচ্চারণ এর পাশাপাশি হাত তোলে ইশারা দিয়ে বোঝানো যেতে পারে।
  • আমরা অনেকেই সালাম দেওয়ার পর বুকে হাত দেই। এটি করা ঠিক নয়, সালামের পর বুকে হাত দেওয়া সালামের কোন অংশ নয়। এটা অনেকেই অভ্যাস বশত করে থাকে। কারো মধ্যে এই অভ্যাস থাকলে সেটা ত্যাগ করা উচিত।

আল্লাহ তাআলা আমাদের বিশুদ্ধরূপে একে অন্যকে সালাম দেওয়ার তৌফিক দান করুন।

ইন্টারনেটে লিখিত সালামের উত্তর দেওয়ার নিয়ম

ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে সালামের জবাব দেওয়ার নিয়ম কি? যদি সালামের উত্তর দেওয়া সম্ভব হয় তাহলে সালামের উত্তর দেওয়া উচিত। অর্থাৎ আপনার যদি সালামের উত্তর দেয়ার সুযোগ থাকে তাহলে উত্তর দিতে হবে। আর সুযোগ না থাকলে সেটা ভিন্ন কথা। যেমনঃ রেডিও বা টেলিভিশনে অনুষ্ঠানের শুরুতে যে সালাম দেওয়া হয় অথবা পত্রিকাতে লেখার পূর্বে যে সালাম দেওয়া হয় সেটার উত্তর দেয়া সম্ভব হয় না। কিন্তু অনলাইনে কমেন্টের মাধ্যমে অথবা সরাসরি যে সালাম দেওয়া হয় তার উত্তর দিতে হবে। যেমনঃ অনেকে ফেসবুকে সালাম দিয়ে থাকেন কমেন্টের মাধ্যমে তার এই সালামের উত্তর দেওয়ার সুযোগ রয়েছে তাই তার সালামের জবাব দেওয়া উচিত।

পায়ে ধরে সালাম করা কি জায়েজ

সালাম দেওয়া সুন্নত। সালাম মুখে দিতে হবে এবং সালামের উত্তর মুখে নিতে হবে। পায়ে হাত রাখা বা শরীরের কোন অংশে হাত রেখে সালাম দেওয়া ইসলামের বিধান নয়। আর যেটা ইসলামের বিধান নয় সেটা করা উচিত নয়। কারো প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে গিয়ে পা ছুঁয়ে সালাম করা একটা রীতি নীতি বা রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। অনেক লোক আছে বিশেষ করে শ্বশুরবাড়ির লোকদের ক্ষেত্রে পা ছুঁয়ে সালাম না করলে বেয়াদব মনে করে। এটা আসলে আমাদের সমাজের অপসংস্কৃতির একটা অংশ। ইসলামে পা ছুঁয়ে সালাম দেওয়ার কোনো নিয়ম বা বিধান নেই।
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ এই আর্টিকেলটিতে উল্লেখিত তথ্যগুলো বিভিন্ন ইসলামিক স্কলারদের লেকচার থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *