সর্দিতে নাক বন্ধ হলে করনীয়, ঘরোয়া উপায়ে সমাধান।

সাধারণত সর্দি লাগলে নাক বন্ধ হয়ে যায়, নাক দিয়ে তরল শ্লেষ্মা পড়ে। নাক বন্ধ হয়ে যায় অস্বস্তি লাগে। অনেক সময় নাকের সাইনাসে ইনফেকশন হয়ে যায়। সর্দি ছাড়াও নাক বন্ধ হতে পারে, বিশেষ করে ঘুমানোর সময়। তখন খুব বিরক্ত লাগে হা করে মুখ দিয়ে শ্বাস ফেলতে হয়।

স্বাস্থ্য সচেতন ব্যক্তিরা জানতে চায় কেন এমন হয়, এর প্রতিকার ও প্রতিরোধের উপায় এবং ঘরোয়া উপায়ে কিভাবে সমাধান করা যায়। এই পোস্টে বিষয়গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়েছে।

নাক বন্ধ হলে নাক দিয়ে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে হয়। সময়মতো চিকিৎসা না করা হলে সর্দি থেকে সাইনুসাইটিস, নাকের পলিপাস ও কানে ইনফেকশন হতে পারে। তবে এই সকল সমস্যা থেকে ঘরোয়া উপায়ে মুক্তি পাওয়া যায়।

নাক বন্ধ হওয়ার কারণ

সর্দিতে নাক বন্ধ হলে করনীয়
সর্দিতে নাক বন্ধ হলে করনীয়

নাক বন্ধ হওয়ার বেশ কিছু কারণ রয়েছে। নাকের সাইনাস অংশে এবং অনুনাসিক গহ্বরে প্রদাহ হলে নাক বন্ধ হয়। এই প্রদাহ ইনফেকশন এর কারণে হতে পারে আবার ইনফেকশন ছাড়াও হতে পারে। যেমন:

আমাদের বেশিরভাগ সাধারণ ঠান্ডাজনিত সর্দি হয় রাইনো ভাইরাসের কারণে। এই ভাইরাস উপরের শ্বাসযন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়। যার ফলে কমন কোল্ড হয় নাক দিয়ে পানি পড়ে ও নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

অ্যালার্জিক রাইনাইটিস এর কারণে নাক বন্ধ হয়ে যায়। অ্যালার্জির প্রভাবে নাকে প্রদাহ হয় এটাই হলো অ্যালার্জিক রাইনাইটিস। অনেকের পরিবেশগত কিছু বিষয়ের প্রতি হাইপার সেনসিটিভিটি থাকে। বিষয়টা একটা উদাহরণ দিয়ে স্পষ্ট করা যাক, অনেকর ফুল শুকলে হাঁচি শুরু হয় নাক বন্ধ হয়ে যায়। ফুলের পরাগ রেনুর প্রতি তার হাইপার সেনসিটিভিটির জন্য এমনটা হয়।

ধোয়া, ধুলাবালি, কেমিক্যাল এক্সপোজার,‌ পশু পাখির লোমের সংস্পর্শ অ্যালার্জিক রাইনাইটিস এর সবচেয়ে কমন কারণ। দুর্বল রোগ প্রতিরোধক্ষম ব্যক্তিদের এই সমস্যা বেশি দেখা দেয়। নাকের পলিপ, ক্রনিক সাইনোসাইটিস, একিউট সাইনোসাইটিস এর কারণেও নাক বন্ধ হয়ে যায়।

নাক বন্ধ হলে ঘরোয়া উপায় কি?

ঘরোয়া উপায় ফলো করে নাকের প্রতিবন্ধকতা দূর করা যায়। পদ্ধতি গুলো খুবই কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে।

আদা চা ও মেন্থল চা: নাক ও গলা পরিষ্কার রাখতে আদা চা ও মেন্থল চা দারুন কাজ করে। আদা চা নাকের প্রতিবন্ধকতা দূর করার পাশাপাশি গলায় ও নাকে ব্যথা কমায়। আদা কুচি করে লবণ দিয়ে খেলেও ভালো কাজ করে।

মেন্থল বাষ্প: বন্ধ নাক দ্রুত খোলার আরও একটি উপায় হল মেন্থল বাষ্প ব্যবহার করা। বাষ্প মিউকাস মেমব্রেনকে আর্দ্র রাখে যার ফলে নাকে প্রতিবন্ধকতা থাকেনা। এক গ্লাস গরম পানিতে দু চার টুকরা মেন্থল মিশিয়ে বাষ্প নাক দিয়ে টানলে বন্ধ নাক দ্রুত খুলে যাবে।

আরও পড়ুন ইস্ট্রোজেন হরমোন যুক্ত খাবার। মেয়েদের হরমোন বৃদ্ধির খাবার।

উঁচু বালিশে ঘুমানো: সাইনাস ব্লকেজগুলি পরিষ্কার রাখতে মাথা উঁচু রেখে ঘুমাতে হবে। তাই ঘুমানোর সময় অন্তত দুটি বালিশ দিয়ে ঘুমালে নাক পরিষ্কার থাকবে। নিচু বালিশে ঘুমালে নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

ইউক্যালিপটাস তেল: ইউক্যালিপটাস তেল সাধারণ সর্দির উপসর্গ গুলো থেকে মুক্তি দেয়। এলার্জি বা সাইনুসাইটিক যেকোনো কারণেই নাক বন্ধ হোক না কেন ইউক্যালিপটাস তেল ব্যবহারে উপকার পাওয়া। এই তেল নাকের ইনফেকশন দূর করতে সাহায্য করে।

নাকের ড্রপ: ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে নাকে ড্রপ ব্যবহার করতে পারেন। যাদের এলার্জির সমস্যার কারণে অর্থাৎ এলার্জিক রাইনাইটিস থেকে নাক বন্ধ থাকে এন্টিহিস্টামিন নাকের ড্রপ ব্যবহারে সুফল পাবেন। যাইহোক ওভার কাউন্টার ড্রাগ হলেও স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ নিয়ে ব্যবহার করা উচিত।

নাক বন্ধ হলে করনীয় কি?

প্রথমত নাক বন্ধের কারণ খুঁজে বের করতে হবে। এলার্জি থেকে নাক বন্ধ হলে যে সকল বিষয়ের কারণে এলার্জিক রাইনাইটিস দেখা দেয় সেগুলো এড়িয়ে চলতে হবে। ঘরের বাইরে বের হলে মাস্ক পড়ে নিবেন। কেননা ধোঁয়া, ধুলাবালি, দূষিত বাতাসের কারণে হাঁচি কাশি ও এলার্জিক রাইনাইটিস দেখা দিতে পারে। পরিবেশগত যে বস্তু হাঁচি সৃষ্টি করে সেগুলো থেকে দূরে থাকতে হবে।

নাক বন্ধ হলে উপরে যে ঘরোয়া প্রতিকার গুলো সম্পর্কে জানানো হয়েছে সেগুলো প্রয়োগ করে দেখতে পারেন। ঘরোয়া প্রতিকারের সুফল পাওয়া না গেলে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।‌ সাধারণ ঠান্ডাজনিত সর্দি ও ফ্লু এর কারণে নাক বন্ধ হয়ে যায়। তাই সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা পেতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

হাঁচি কাশির সময় টিস্যু বা রুমাল ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংক্রমণ প্রতিরোধে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। সর্দি কাশিতে আক্রান্ত ব্যক্তি সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকতে হবে।

শিশুর নাক বন্ধ হলে করণীয়

যেকোনো বয়সে নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া সমস্যা দেখা দিতে পারে। শিশুর ক্ষেত্রে হলে কি করনীয় এখন আমরা এ বিষয়ে জানব। শিশুদের নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া সমস্যা দেখা দিলে সহজেই বোঝা যায়। মায়ের বুকের দুধ খেতে পারে না, কান্নাকাটি করে।

শিশুর নাকে স্যালাইন ড্রপ দিলে দ্রুত নাকের জট খুলবে। স্যালাইন ড্রপে সোডিয়াম ক্লোরাইড থাকে তাই এই ড্রপ শিশুদের জন্য একেবারে নিরাপদ। শিশুর সর্দি ও নাক বন্ধের পাশাপাশি কাশি, জ্বর ও বুকে কফ থাকলে দ্রুত একজন ডাক্তার দেখাতে হবে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *