রানের চিপায় চুলকানি দূর করার ঘরোয়া উপায়।

রানের চিপায় চুলকানি জক ইচিং নামে পরিচিত। ডাক্তারি ভাষায় বলা হয় টিনিয়া ক্রুরিস। এটি মূলত ডার্মাটোফাইট ছত্রাকের সংক্রমনের কারণে হয়। সাধারণত ত্বকের ভাঁজে ঘাম জমে থাকে ফলে ছত্রাক সংক্রমনের সুযোগ সৃষ্টি হয়। রানের চিপা ঘামে ভেজা থাকার কারণে জক ইচিং হয়। এটি কুঁচকি অংশ, উরুর ত্বকের ভাঁজ এবং মলদ্বারে চুলকানি ও জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করে।

জক ইচিং কোন জটিল সমস্যা নয়। তবে এর কারনে অনেক সময় বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। এই পোস্ট আপনাদের রানের চিপায় চুলকানি দূর করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে জানানো হয়েছে। আশা করি আপনাদের উপকারে আসবে।

রানের চিপায় চুলকানি দূর করার উপায়

নারীদের তুলনায় পুরুষেরা রানের চিপায় চুলকানিতে বেশি আক্রান্ত হয়। তবে নারীরাও এই চর্মরোগে আক্রান্ত হয়। লালচে ভাব, ফুসকুড়ি, তীব্র চুলকানি ও জ্বালাপোড়া এই রোগের প্রধান লক্ষণ।

রানের চিপায় চুলকানি দূর করার ঘরোয়া উপায়

আক্রান্ত স্থান পরিষ্কার ও শুষ্ক রাখতে হবে, নিয়ম মেনে অ্যান্টিফাঙ্গাল ক্রিম ব্যবহার করলে চুলকানি থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়া যায়। কিছু ঘরোয়া প্রতিকার জক ইচিং থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করে। আসুন প্রতিকার গুলো জেনে নেয়া যাক।

আপেল সিডার ভিনেগার

আপেল সিডার ভিনেগারে ছত্রাক নাশক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। ছত্রাকের সংক্রমনের বিরুদ্ধে এটি দারুন কাজ করে। একটি কাপে ১ টেবিল চামচ আপেল সিডার ভিনেগার ও ১ টেবিল চামচ পানি মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণে তুলা ভিজিয়ে রানের চিপায় বা যেখানে ফাঙ্গাল ইনফেকশন রয়েছে সেখানে আলতো করে ঘষুন। প্রতিদিন দুই বার করে কিছুদিন ব্যবহারে জক ইচিং থেকে মুক্তি পাওয়ার যাবে।

নিম পাতা

চুলকানি সমস্যায় নিম পাতার ব্যবহার বেশ পুরনো। জক ইচিং ও অন্যান্য ছত্রাক সংক্রমনের ঘরোয়া চিকিৎসায় নিম পাতা বেশ উপকারী। কেননা এতে রয়েছে ছত্রাক বিরোধী বৈশিষ্ট্য। কিছু নিম পাতা পানিতে মিশিয়ে ৫ মিনিট সিদ্ধ করুন। এই পানিতে তুলা ভিজিয়ে রানের চিপায় লাগানো হলে দ্রুত চুলকানি নিরাময় হবে।

তাছাড়া নিম পাতা মিশ্রিত সেদ্ধ পানি দিয়ে গোসল করলে শরীরের ত্বক সুস্থ থাকে। ত্বকে জ্বালাপোড়া থাকে না, সহজে ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হয় না।

মধু ও রসুন পেস্ট

রসুন কয়েক ধরনের ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে পারে। রসুনে রয়েছে সালফাইট যে কারণে রসুন একটি শক্তিশালী প্রাকৃতিক অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ হিসেবে কাজ করে। মধু হলো একটি প্রাকৃতিক অ্যান্টি হিস্টামিন। মধু হিস্টামিন নিয়ন্ত্রণ করে ত্বকের জ্বালাপোড়া ও চুলকানি কমায়। রসুনের তেল সরাসরি ত্বকের কোন স্থানে ব্যবহারের ফলে জ্বালাপোড়া হতে পারে। রসুনের তেল ব্যবহারে যেন ত্বকে জ্বালাপোড়া না হয় এজন্য রসুনের তেলের সাথে কিছুটা মধু মিশিয়ে নিন।

কয়েকটি রসুনের কোয়া পিষে এর সাথে কিছুটা মধু মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণে সামান্য গরম পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। চুলকানি ও আশেপাশের সংক্রমিত স্থানে এই পেস্ট দিনে দুইবার ব্যবহার করুন। রাতে ঘুমানোর আগে এই পেস্ট লাগিয়ে সারারাত রেখে দিন রানের চিপায় জ্বালাপোড়া ও চুলকানি দূর হবে।

চা গাছের তেল

রানের ভাঁজে চুলকানির আরো একটি কার্যকরী ঘরোয়া প্রতিকার হল চা গাছের তেল। এই তেল ফাঙ্গাল ইনফেকশন এর বিরুদ্ধে দারুন ভাবে কাজ করে। রানের চিপায় চা গাছের তেল ব্যবহারে চুলকানি থেকে স্বস্তি পাওয়া যাবে।

২ টেবিল চামচ নারিকেল তেল অথবা অলিভ অয়েল তেলের সাথে ৪ ফোঁটা চা গাছের তেল মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণ দিনে ২ বার রানের চিপা ও আশেপাশের আক্রান্ত স্থানে লাগাতে হবে। এতে চুলকানি ও জ্বালাপোড়া দুটোই দূর হবে।

অ্যালোভেরা

অ্যালোভেরা পাতায় গ্লাইকোপ্রোটিন নামের এক ধরনের উপাদান থাকে। এটি ত্বকের জ্বালাপোড়া কমাতে সাহায্য করে। ত্বকের সব ধরনের ইনফেকশনের বিরুদ্ধে অ্যালোভেরা অসাধারণ কাজ করে। অ্যালোভেরা জেল ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে জীবাণু ধ্বংস করে। জক ইচিং দ্রুত কমাতে ব্যবহার করতে পারেন অ্যালোভেরা পাতার নির্যাস।

ক্যালেন্ডুলা অয়েল

ত্বকের যত্নে অনেক ধরনের ফুলের নির্যাস ব্যবহার করা হয়। ক্যালেন্ডুলা তেল এদের মধ্যে খুব জনপ্রিয়। ক্যালেন্ডুলা ফুল দেখতে অনেকটা সূর্যমুখী ফুলের মত। আর ফুলের রঙ হল গাঁদা ফুলের মত হলুদ। ক্যালেন্ডুল ফুলের পাপড়ি গুলো ছিঁড়ে রাখলে এগুলো দেখতে অনেকটা গাঁদা ফুলের পাপড়ির মত দেখায়।

আরো পড়ুন কোন ফলে কতটুকু ক্যালরি থাকে এর তালিকা।

এই ফুলের নির্যাস থেকে তৈরি তেল হলো ন্যাচারাল অ্যান্টিসেপ্টিক। পাশাপাশি এটি অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি হিসেবে কাজ করে। এই তেল চুলকানির স্থানে ব্যবহারে চুলকানি দূর হবে এবং ত্বকের জ্বালাপোড়া কমবে।

রানের চিপায় চুলকানি প্রতিরোধের উপায়

জক ইচিং প্রতিরোধের জন্য এখানে কতগুলো টিপস দেওয়া হল।

  • খেলাধুলা ও ব্যায়ামের ভালোভাবে গোসল করুন।
  • গোসলের পর রানের চিপা পরিষ্কার গামছা বা তোয়ালে দিয়ে ভালোভাবে মুছে ফেলুন। এই তোয়ালে অন্য কেউ যেন ব্যবহার না করে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
  • টাইট-ফিটিং আন্ডারওয়ার ও প্যান্ট পরিধান যাবে না।
  • আন্ডারওয়ার ও প্যান্ট পরিধানের পর প্রতিদিন ভালোভাবে ধুয়ে শুকাতে হবে।

রানের চিপায় চুলকানি দূর করার ক্রিম

যেহেতু উক্ত চুলকানি ফাঙ্গাল ইনফেকশন বা ছত্রাকজনিত সংক্রমনের কারণে হয় তাই ওটিসি (ওভার দা কাউন্টার) অ্যান্টিফাঙ্গাল ক্রিম ব্যবহারে উপকার পাওয়া যাবে। সাময়িকভাবে চুলকানি দূর করতে খেতে পারেন চুলকানির ওষুধ।

ঘরোয়া প্রতিকার ও ওটিসি ওষুধ সেবনে ভালো ফলাফল না পেলে একজন স্বাস্থ্যকর্মী অথবা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ডাক্তার টপিক্যাল অ্যান্টিফাঙ্গাল ক্রিম এর পাশাপাশি ওরাল অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দিতে পারে। ওরাল অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ সেবনে কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে ডাক্তারকে বিষয়টি জানাতে হবে।
পুরুষ, কিশোর, মোটা স্বাস্থ্য, দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং ডায়াবেটিস রোগীদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি

সাধারণত ঘরোয়া প্রতিকার ও ওটিসি অ্যান্টিফাংগাল ক্রিম প্রয়োগ করে রানের চিপায় চুলকানি দূর করা সম্ভব। পাশাপাশি আক্রান্ত স্থান শুষ্ক ও পরিষ্কার রাখতে হবে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *