পিঠে ব্যথা হওয়ার কারণ ও লক্ষণ।

পিঠে ব্যথা কিসের লক্ষণ স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের জেনে রাখা দরকার। বর্তমান সময়ে ব্যাক পেইন কথাটি বেশ পরিচিত। পিঠে ব্যথাকে ইংরেজিতে ব্যাকপেইন বলা হয়।বয়স বাড়ার সাথে সাথে ব্যাক পেইন হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। তবে যেকোনো বয়সের মানুষই এই সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারে। এই সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার পেছনে নানা কারণ রয়েছে। 

আপনার দৈনিক কাজকর্ম ব্যাক পেইনকে প্রভাবিত করে। পিঠের উপরের অংশ ও নিচের অংশের ব্যথার কারণ গুলো ভিন্ন ভিন্ন। 

হালকা পাতলা ব্যাক পেইন মাঝে মাঝে হয় যা এমনিতেই ভালো হয়ে যায়। তবে কখনো কখনো ব্যথার কারণে দৈনন্দিন স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হয়। নিয়মিত ব্যায়াম ও ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চললে পিঠে ব্যথা দ্রুত ভালো হয়। খুব কম ক্ষেত্রেই অপারেশনের প্রয়োজন হতে পারে।

পিঠে ব্যথার কারণ

পিঠে ব্যথা হওয়ার কারণ ও লক্ষণ

পেশী, লিগামেন্ট, টেন্ডন, ডিস্ক ও হাড় হলো মেরুদন্ডের প্রধান অংশ। মেরুদন্ডে যে ডিস্ক গুলো থাকে সেখানে কোন সমস্যা হলে ব্যথা হতে পারে। পেশির খিচুনির কারণেও ব্যথা হতে পারে। ডাক্তাররা বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে ব্যাথার কারণ খুঁজে বের করে। সম্ভাব্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে- 

পেশী বা লিগামেন্ট স্ট্রেন: বারবার ভারী জিনিস উত্তোলন করলে অথবা হঠাৎ করে মুভমেন্ট এর ফলে পিঠের পেশী বা মেরুদন্ডের লিগামেন্টে চাপ লাগার কারণে পিঠে ব্যথা হয়। শারীরিক কন্ডিশন যদি খুব দুর্বল হয় পিঠে অল্প চাপ লাগলেই ব্যথা ও পেশির খিঁচুনি হয়। 

ডিস্ক ফেটে গেলে: মেরুদন্ডের কাঠামোর কোন পরিবর্তন হলে পিঠে ব্যথা হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ডিস্ক ফেটে গেলে অথবা তার জায়গা থেকে সরে গেলে ব্যাক পেইন হয়। 

আর্থ্রাইটিস হলে: অস্টিওআর্থ্রাইটিস হলো বাতজনিত রোগ যা হিপস, পিঠের নিচের দিকে ও শরীরের যে কোন জয়েন্টে ব্যথার সৃষ্টি করে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে মেরুদন্ডের চারপাশে স্থান সংকুচিত হয়ে যায় ডাক্তাররা একে স্পাইনাল স্টেনোসিস বলে। স্পাইনাল স্টেনোসিস এর ফলে মেরুদন্ডে ব্যথা হয়। 

অস্টিওপোরোসিস হলে: অস্টিওপোরোসিস হলো হাড়ের সমস্যা জনিত রোগ। মেরুদন্ডে অস্টিওপোরোসিস হলে সেখানের হাড় গুলি নরম, ভঙ্গুর এবং ছিদ্র যুক্ত হয়ে যায়। কম্প্রেশন ফ্র্যাকচার ও ব্যথা হয়।

কিডনির রোগ: কিডনিতে পাথর বা ইনফেকশনের কারণেও ব্যথা হয়।

লাইফস্টাইল ফ্যাক্টর: অতিরিক্ত ওজন, ব্যায়ামের অভাব এবং ধূমপান পিঠে ব্যথার কারণ হতে পারে।

আঘাত: দুর্ঘটনা, পড়ে যাওয়া বা আঘাতের ফলে ফ্র্যাকচার, মচকে যাওয়া বা অন্যান্য আঘাতের কারণে ব্যথা হতে পারে।

মেরুদন্ডের কোথাও টিউমার, পাথর বা ইনফেকশনের কারণে অনেক সময় ব্যাক পেইন হয়। কখনো কখনো গ্যাস্ট্রিক থেকে গ্যাস্ট্রিক ব্যাক পেইন হয়।

আরও বহু কারণ আছে যেমন: চেয়ারে বসে বা সামনের দিকে ঝুঁকে দীর্ঘ সময় কাজ করা, হাঁচি-কাশি, একটানা বসে থাকা বা দাঁড়িয়ে থাকার কারণে ব্যাক পেইন হয়।

পিঠে ব্যথা কিসের লক্ষণ

শুধু কিডনির সমস্যা হলে এমন হয় এই ধারণা ভুল। ব্যথার অনেক কারণ রয়েছে যা আমরা ইতিমধ্যে জানতে পেরেছি। এর আসল কারণ খুঁজে বের করতে হবে। জেনে রাখা ভালো, কিডনির ব্যথা হলে সাধারণত পিঠের নিচের অংশে ব্যাথা অনুভব হয়।

ব্যথার সাথে আর কি কি সমস্যা বোধ হয় তা পর্যবেক্ষণ করতে হবে। ব্যথার ধরন ও প্রকৃতি, পিঠের কোন অংশে ব্যথা হচ্ছে, ব্যথা নড়াচড়া করে কিনা ইত্যাদি সকল তথ্য দিয়ে ডাক্তারকে সহযোগিতা করতে হবে।

আরো পড়ুন রানের চিপায় চুলকানি দূর করুন ঘরোয়া উপায়ে।

ব্যথা যদি অবিরাম চলতে থাকে এবং তীব্র পিঠে ব্যথা অনুভব হয় তবে একজন ডাক্তার দেখানো উচিত। ব্যথার কারণ নির্ণয় করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিলে সহজে এবং দ্রুত সেরে ওঠা সম্ভব। 

পিঠে ব্যথা হলে করণীয়

বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে এই সমস্যাটা বেশি দেখা যায়। আমরা যখন কাজ করি বা নড়াচাড়া করি পিঠের পেশী ও মেরুদন্ডে কিছুটা চাপ পড়ে যা স্বাভাবিক। কিন্তু অতিরিক্ত চাপ ইনজুরির কারণ হতে পারে। ডাক্তারের ওষুধের পাশাপাশি কিছু টিপস মেনে চললে ব্যাক পেইন দ্রুত ভালো হয়। আমি এখানে কতগুলো ঘরোয়া প্রতিকার সম্পর্কে জানিয়েছি যেগুলো ব্যাকপেইন দূর করতে সাহায্য করে। 

পিঠের পেশিকে শক্তিশালী করতে ব্যায়াম

ব্যথার কারণে ওঠা, বসা ও নড়াচড়া করা খুবই কষ্টকর। কঠিন ব্যায়াম গুলা করা সম্ভব হয় না। তবে সাধারণ ব্যায়াম যেমন: হাঁটাচলা, সাঁতার কাটা ও যোগব্যায়াম করা যায়। এই ব্যায়ামগুলো পিঠে ব্যথা উপশম করে। 

ব্যায়াম করলে টানটান পেশী শিথিল হয় এবং মস্তিষ্কের এন্ডোরফিন নিঃসরণ মাত্রা বাড়ে যা ব্যথা কমায়। নিয়মিত ব্যায়াম করলে পেশি শক্তিশালী হয় যার ফলে পিঠে ব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা কমে। 

পিঠে ব্যথা কমাতে ঠান্ডা ও গরম সেঁক

ব্যথাযুক্ত স্থানে ঠান্ডা অথবা গরম সেঁক দিলে ব্যথা অনেকটা উপশম হয়। তবে কখন গরম সেঁক দিবেন আর কখন ঠান্ডা সেঁক দিবেন এই ব্যাপারে জানতে হবে। যদি ক্রনিক ব্যাক পেইন বা দীর্ঘদিন ধরে ব্যাথা চলতে থাকে তাহলে গরম সেঁক দিলে উপকার পাওয়া যায়। আঘাত পেলে বা অন্য কোন কারণে ব্যথা হলে ব্যথাযুক্ত স্থানে ঠান্ডা সেঁক দিবেন। 

একটি পাতলা কাপড়ে এক টুকরা বরফ নিয়ে পিঠের যে জায়গাতে ব্যথা হয় সেখানে লাগালে দ্রুত ব্যথা কমবে। দৈনিক ৩ থেকে ৪ বার ২০ মিনিট করে এই টিপস ব্যবহার করলে ব্যথা কমে। ব্যথার জায়গায় কখনো সরাসরি বরফ লাগাবেন না কাপড়, তোয়ালে বা আইসপ্যাক ব্যবহার করতে হবে। 

ব্যাক পেইন কমাতে আরো কিছু টিপস

একজন মানুষের দৈনিক ৭ থেকে ৮ ঘন্টা ঘুমানো প্রয়োজন। ঘুম কম হলে ব্যাক পেইন হতে পারে তাই পর্যাপ্ত ঘুম প্রয়োজন। কিছু অ্যান্টিইনফ্লামেটরি খাবার ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। আদা, হলুদ, গোলমরিচ, আঙ্গুর, কাঁচা মরিচ খেলে প্রদাহ কমে। পিঠের ব্যথা কমাতে এই খাবারগুলো সহায়ক হতে পারে। শরীরকে হাইড্রেট রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। 

সব ধরনের ঘরোয়া প্রতিকারে হয়তো সাময়িকভাবে ব্যথা উপশম হবে কিন্তু সম্পূর্ণ ব্যথা মুক্তির জন্য চিকিৎসা সেবা নিতে হবে।

শেষ কথা

তীব্র পীঠে ব্যথা এবং দীর্ঘদিন ধরে ব্যথা হলে অবহেলা করা ঠিক হবে না। এই ব্যাথা শরীরের অন্যান্য অংশকে প্রভাবিত করতে পারে। তীব্র ব্যথা অনুভবে অস্বস্তি লাগে কোন কাজে মন বসে না। সামনের দিকে ঝুঁকে বসে কাজ করলে অথবা একটানা দাঁড়িয়ে থাকলে সামান্য ব্যথা তীব্র ব্যথায় পরিণত হয়।

ব্যথা কমাতে ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়ার আগে একজন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নেওয়া উচিত। দীর্ঘদিন ব্যথার ওষুধ খাওয়ার ফলে পেটে আলসার ও কিডনিতে সমস্যা দেখা দেওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। আপনার যদি পিঠে ব্যথা হয় তাহলে একজন ফিজিওথেরাপিস্ট দেখানো প্রয়োজন। তার দেখানো নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিন ব্যায়াম করলে কোমর ব্যথা দ্রুত ব্যথা দূর হবে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *