দাঁতের মাড়িতে পুঁজ হলে করনীয়, খুব সহজ সমাধান।

দাঁতের মাড়িতে পুঁজ জমে সাধারণত ভাবে দাঁতের মাড়িতে ফোড়া হলে। ডাক্তাররা দাঁতের মাড়িতে ফোঁড়া হলে তাকে ডেন্টাল অ্যাবসেস বলে। মাড়িতে পুঁজ জমলে বা ডেন্টাল অ্যাবসেস হলে সেখানে এবং আশেপাশের অঞ্চলে ব্যথা ছড়িয়ে পরে। এই আর্টিকেলটিতে আলোচনা করা হবে মাড়িতে পুঁজ জমার কারন,লক্ষণ ও উপসর্গ, ডেন্টাল অ্যাবসেস হলে তার জটিলতা এবং প্রতিরোধ ও প্রতিকারের উপায় সম্পর্কে।

আমাদের শরীরের যে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ রয়েছে সেগুলোর মধ্যে দাঁত কিন্তু কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। কিন্তু আমরা অনেকই নিয়মিত ভাবে দাঁতের যত্নের দিকে মনযোগ দেই না। ঠিকমতো দাঁত ও মাড়ির যত্ন না নিলে নানারকম রোগ জীবাণুতে আক্রান্ত হতে হয়।

দাঁত ও মাড়ির রোগগুলিকে প্রাথমিক পর্যায়ে যথেষ্ট গুরুত্ব না দিলে একপর্যায়ে এই রোগগুলি যন্ত্রণাদায়ক হয়ে উঠে এবং দাঁত ও মাড়ির অনেক ক্ষতি করে থাকে। দাঁত ও মাড়ির রোগগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় মাড়ি ফুলে গিয়ে সেখানে পুঁজ জমা হতে থাকে যাকে গাম অ্যাবসেস বলে।

দাঁতের মাড়িতে পুঁজ হলে করনীয়

মাড়িতে পুঁজ হয় কেন?

সাধারণত ভাবে দাঁত বা মাড়িতে সংক্রমণ হলে মাড়িতে ফোঁড়া হয়। আমরা খাবার খেলে খাবারের কিছু অংশ বা খাদ্য কনা দাঁতে লেগে থাকে। এই খাদ্যকনাগুলো সম্পুর্নরুপে পরিষ্কার না করা হলে মুখে থাকা ব্যাকটেরিয়াগুলো এই খাদ্যকনার সাথে ক্রিয়া করে একধরনের অ্যাসিড উৎপন্ন করে।

এভাবে উৎপাদিত অ্যাসিডের কারণে দাঁত ক্ষয় হতে থাকে। এই খাদ্যকণা দাঁতে দীর্ঘসময় আটকে থাকলে তাকে প্লেক বলা হয়। প্লেকগুলো তার আশেপাশের টিস্যু গুলোকে সংক্রমিত করে যার ফলে গাম অ্যাবসেস বা মাড়িতে ফোঁড়া হয়।

আরও পড়ুন কৃমি হলে কি কি সমস্যা হয় ও কৃমি দূর করার ঘরোয়া উপায়।

এছাড়াও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হলে মাড়িতে ফোড়া হতে পারে। রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হলে ব্যাকটেরিয়াগুলো খুব সহজেই দাঁত ও মাড়িতে সংক্রমণ ঘটাতে পারে যার ফলে মাড়িতে ফোঁড়া হয়। তাই মাড়ির ফোঁড়া প্রতিরোধ করতে হলে নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করে দাঁত হতে খাদ্যকণা সরিয়ে ফেলতে হবে এবং এর পাশাপাশি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে হবে।

দাঁতের মাড়িতে ফোঁড়া হলে লক্ষণ

কিভাবে বুঝবেন আপনার মাড়িতে ফোঁড়া হয়েছে। মাড়িতে ফোঁড়া হলে কতগুলো লক্ষণ প্রকাশ পাবে। যদি এই লক্ষণগুলো আপনার মাঝে প্রকাশ পায় তাহলে বুঝবেন যে আপনার মাড়িতে ফোঁড়া হয়েছে। মাড়িতে ফোঁড়া হলে সাধারণত যে লক্ষণ গুলি প্রকাশ পায় সেগুলোর মধ্যে রয়েছে। 

  • গরম বা ঠান্ডার প্রতি সংবেদনশীলতা: মাড়িতে ফোঁড়া হলে গরম বা ঠান্ডা খাবার ও পানি খেলে দাঁতে ব্যথা হয়। মুলত গরম বা ঠান্ডা খাবার ও পানির প্রতি সংবেদনশীলতার কারণে এমন হয়। 
  • খাবার চিবানোর সময় ব্যথা: খাবার খাওয়ার সময়  খাবার চিবাতে গেলে মাড়ির ফোঁড়া বা তার আশেপাশে অঞ্চলে ব্যথা হয়। 
  • জ্বর: মাড়িতে ফোঁড়া হলে শরীরে জ্বর আসতে পারে। 
  • পুঁজ বের হওয়া: মাড়িতে ফোঁড়া হলে ফোঁড়ার স্থান হতে পুঁজ বের হতে পারে।
  • মুখে বাজে স্বাদ: দাঁতের মাড়িতে ফোঁড়া এবং পুঁজ হলে মুখে সবসময় খারাপ স্বাদ লাগবে।

দাঁতের মাড়িতে ফোঁড়া হলে এই লক্ষণগুলো  সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। তবে এই লক্ষণগুলো ছাড়াও আরও অন্যান্য লক্ষণও প্রকাশ পেতে পারে।

মাড়িতে ফোঁড়ার চিকিৎসা 

মাড়িতে ফোঁড়া ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের কারনে হয় তাই মাড়িতে ফোঁড়ার হলে একজন ডেনটিস্টের সাথে যোগাযোগ করা উচিৎ। ফোঁড়ার থেকে পুজঁ বেড় করা,সংক্রমণ প্রতিরোধ ও প্রতিকারের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টিসেপটিক মাউথ ওয়াশ এবং ব্যথানাশক এগুলো হলো মাড়ির ফোঁড়ার চিকিৎসার উপকরন। গাম অ্যাবসেস বা ফোঁড়া থেকে দুর্গন্ধযুক্ত পুঁজ বের হয় এবং ব্যথা হয়।

ব্যাথা নাশক ওষুধ খেলে সাময়িক ব্যথা মুক্ত থাকা যায়। তবে ব্যাথা নাশক ওষুধের রয়েছে বেশ কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া। আবার দীর্ঘদিন সেবনে দেখা দিতে পারে পেপটিক আলসার, কিডনির কার্যকরিতা কমে যাওয়ার মত নানা সমস্যা। তাই এক্ষেত্রে একজন দন্তচিকিৎসক এর পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করা উচিৎ। দয়া করে কখনো নিজ দায়িত্বে ওষুধ সেবন করে স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিবেন না।

মাড়ির ফোঁড়ার জটিলতা

মাড়িতে ফোঁড়া বা পুজঁ হলে অবহেলা করা উচিৎ নয়। চিকিৎসায় দেরি হলে বা শুরুতে ভালো চিকিৎসা না হলে পরবর্তীতে জটিল অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে। একপর্যায়ে মাড়ির গভীর টিস্যু গুলোতে সংক্রমণ ছড়িয়ে যেতে পারে। সংক্রমণ দীর্ঘস্থায়ী হলে সেপসিস হতে পারে। সেপসিস হলো একটি ইইমারজেন্সি মেডিকেল কন্ডিশন এবং এই অবস্থায় সংক্রমণ রক্তে ছড়িয়ে পরে। সেপসিসের কারণে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তাই আমাদের সেপসিস এর লক্ষণগুলি জানা দরকার। সেপসিস এর লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে। 

  • শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা জ্বর 
  • শ্বাসকষ্ট 
  • বুকে ব্যথা 
  • হার্টবিট বা হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি পাওয়া।

এই লক্ষণ গুলি পাওয়া গেলে জরুরি সেবা নেয়ার জন্য হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *