থাইরয়েড রোগীর খাবার তালিকা। থাইরয়েড কমানোর খাবার।

আমাদের গলাতে রয়েছে থাইরয়েড গ্রন্থি যার কাজ হল রক্তে থাইরয়েড হরমোন নিঃসরণ করা। এই থাইরয়েড গ্রন্থি যদি সঠিকভাবে কাজ না করে  তাহলে থাইরয়েড হরমোনজনিত রোগ হয়। যাকে অনেকেই সমস্যা বলে থাকে। থাইরয়েড হরমোনের  সমস্যা জনিত রোগ দুটিকে যথাক্রমে হাইপারথাইরয়েডিজম ও হাইপোরথাইরয়েডিজম বলে।

হাইপারথাইরয়েডিজম রোগে থাইরয়েড গ্রন্থি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাইরয়েড হরমোন উৎপন্ন করে। হাইপোথাইরয়েডিজম রোগে থাইরয়েড গ্রন্থি স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাইরয়েড হরমোন উৎপন্ন করে। থাইরয়েড হরমোনের বেশি বা কম উৎপাদন শরীরে বিভিন্ন সমস্যার কারণ হতে পারে।

হাইপারথাইরয়েডিজম ও হাইপোথাইরয়েডিজম উভয় ক্ষেত্রে শরীর তার বিভিন্ন ফাংশনের স্বাভাবিক কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলতে পারে। তাই থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা স্বাভাবিক থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে হলে খাদ্য তালিকায় কিছুটা পরিবর্তন আনতে হবে।

থাইরয়েড রোগীর খাবার তালিকা।

সুস্থ থাকতে হলে সুষম খাদ্য খেতে হবে। আবার উচ্চমাত্রায় ক্যালোরি যুক্ত খাবার খেলে শরীরের ওজন বৃদ্ধি পায়। থাইরয়েডের সাথে শরীরের ওজনের একটা সম্পর্ক রয়েছে। কম ক্যালোরি সমৃদ্ধ, সুষম খাদ্য ও নিয়মিত ব্যায়াম থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে অনেকটা সাহায্য করবে।

হাইপোথাইরয়েডিজম রোগীর খাদ্য

হাইপোথাইরয়েডিজম রোগে আক্রান্ত হলে শরীরের ওজন বৃদ্ধি পেতে পারে। দেখা দিতে পারে অনিয়মিত ঋতুস্রাব,দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য, ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া, পেশীর দুর্বলতা ও বিষণ্নতার মতো উপসর্গগুলো।

হাইপোথাইরয়েডিজম রোগীর খাদ্য তালিকায় থাকতে হবে এমন সব পুষ্টিকর খাবার যেগুলো থাইরয়েড হরমোন নিয়ন্ত্রণ অর্থাৎ রোগটিকে নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

সেলেনিয়ামের ও আয়োডিনের অভাবে হতে পারে হাইপোথাইরয়েডিজম। তাই খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে সেলেনিয়ামের ও আয়োডিন যুক্ত খাবার গুলো।

১.আয়োডিনযুক্ত খাবার ও লবণ

আয়োডিনের অভাবে হতে পারে হাইপোথাইরয়েডিজম। হাইপোথাইরয়েডিজম প্রতিরোধে ও থাইরয়েড হরমোন নিয়ন্ত্রণে আমাদের আয়োডিনের অভাব পূরণ করতে হবে। আয়োডিনযুক্ত খাবার লবণ আমাদের দেহের আয়োডিনের অভাব পূরণে সাহায্য করে। রান্নায় ব্যবহার করুন আয়োডিনযুক্ত খাবার লবণ।

যাদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে তাদের লবণ খাওয়া নিষেধ। তাই বিকল্প হিসেবে খেতে পারেন আয়োডিন যুক্ত খাবার। সামুদ্রিক মাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়োডিন পাওয়া যায়। ডিম, কলা, বীজ জাতীয় খাবার, শাকসবজিতে আয়োডিন রয়েছে।

২. নারকেল তেল

নারকেল তেলে রয়েছে হেলদি মিডিয়াম চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড যা থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। রান্নায় ব্যবহার করতে পারেন নারকেল তেল। তবে দৈনিক তিন টেবিল চামচ নারকেল তেল খেতে পারেন এর বেশি নারকেল তেল খাওয়া উচিত নয়।

৩. অলিভ অয়েল

অলিভ অয়েলে পর্যাপ্ত পরিমাণে হেলদি ফ্যাট রয়েছে। থাইরয়েড রোগীদের খাবার বানাতে পারেন অলিভ অয়েলে তেল দিয়ে। অলিভ অয়েল তেল খেলে রক্তের খারাপ কোলেস্টেরল কমে এবং হার্ট ভালো থাকে।

৪. বাদামি চালের ভাত

হাইপোথাইরয়েডিজম রোগীদের ব্রাউন রাইস বা বাদামি চালের ভাত খেতে হবে। কেননা বাদামি চালের ভাতে থাকে স্বাস্থ্যকর কার্বোহাইড্রেট। প্রসেসেড ফুড গুলোতে অস্বাস্থ্যকর কার্বোহাইড্রেট থাকে যা থাইরয়েড সহ সার্বিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

থাইরয়েড হরমোনের ঘাঁটিতে হজমে সমস্যা দেখা দিতে পারে। বাদামি চালের ভাত খেলে হজমে সমস্যা দূর হয়। তাই সাদা চালের পরিবর্তে বাদামী চালের ভাত খাওয়া উচিত।

৫.ডিম

ডিমে থাকে টাইরোসিন, আয়োডিন ও সেলেনিয়াম। এগুলো হাইপোথাইরয়েডিজম রোগীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। তাছাড়া ডিম প্রোটিনে ভরপুর একটি খাবার। সবদিক থেকে বিবেচনা করে সকালের নাস্তায় একটি ডিম খাওয়া যেতে পারে।

৬.স্যামন মাছ

থাইরয়েড রোগীরা সব ধরনের মাছ খেতে পারবেন। তবে স্যামন মাছ একটু বেশি উপকারী।

স্যামন মাছে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড এবং সেলেনিয়াম থাকে। রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও থাইরয়েড গ্রন্থির স্বাভাবিক কার্যকারিতায় এই দুটি পুষ্টি উপাদানের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

হাইপোথাইরয়েডিজম রোগীর নিষিদ্ধ খাবার

হাইপোথাইরয়েডিজম রোগীর নিষিদ্ধ খাবার

এখানে এমন কতগুলো খাবার সম্পর্কে জানানো হয়েছে যেগুলো হাইপোথাইরয়েডিজম রোগীর জন্য ক্ষতিকর।

১.গ্লুটেন সমৃদ্ধ খাবার

গ্লুটেন সমৃদ্ধ খাবারগুলো হাইপোথাইরয়েডিজম রোগীর ক্ষতির কারণ হতে পারে। গমের আটা দিয়ে তৈরি সব ধরনের খাবারে গ্লুটেন থাকে। যেমন: নুডুলস, রুটি, পাস্তা,সুজি ইত্যাদি। তবে চালের আটা দিয়ে তৈরি সব ধরনের খাবার খেতে পারবেন।

২.সয়া ফুড

সব ধরনের সয়া ফুড পরিহার করুন কারণ এ ধরনের খাবার থাইরক্সিন শোষণে বাঁধা দেয়। সয়ামিল্ক, সয়াবিন তেল, টফু, মীসো ইত্যাদি খাবারগুলো সয়া ফুডের অন্তর্ভুক্ত।

৩.ক্রুসিফেরাস এবং গয়ট্রজেনাস পরিবারের খাদ্য

ক্রুসিফেরাস এবং গয়ট্রজেনাস পরিবারের কিছু খাদ্য আয়োডিন শোষণ করতে বাধা দেয়। তাই এই ধরনের খাবার না খাওয়াই ভালো। খেতে ইচ্ছে করলে ভালোভাবে সিদ্ধ করে খেতে হবে। কাঁচা ও অর্ধ সিদ্ধ খাওয়া যাবে না।

এই ধরণের খাদ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে: বাঁধাকপি, ব্রাসেলস স্প্রাউট, ব্রোকলি, ফুলকপি, মূলা, শালগম, বেগুন, কলমি শাক, সরিষা শাক,কুমড়ার বীচি ইত্যাদি।

৪.আস্বাস্থ্যকর খাবার

অ্যালকোহল, ফার্মের মুরগি, ডিম, চাষের মাছ, হাইব্রিড খাবার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। হাইপোথাইরয়েডিজম রোগীর জন্য এই খাবারগুলো আরো ক্ষতিকর। অ্যালকোহল থাইরয়েড গ্রন্থির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। কফি খেলে হাইপোথাইরয়েডিজমের ওষুধ শোষণে সমস্যা হয়।

আরও পড়ুন কোন কোন খাবারে ইনসুলিন তৈরি হয়?

সব ধরনের প্রসেস ফুড, কার্বোনেট পানীয়, চিনি যুক্ত খাবার, ফাস্ট ফুড অস্বাস্থ্যকর খাবারের অন্তর্ভুক্ত। এ ধরনের খাবারগুলো থাইরয়েড রোগীদের পরিহার করা উচিত। থাইরয়েড রোগীদের নিষিদ্ধ খাবার তালিকায় রাখতে হবে সব ধরনের ট্রান্সফ্যাট খাবার।

হাইপোথাইরয়েডিজম রোগীর ডায়েট চার্ট

হাইপোথাইরয়েডিজম রোগীদের উচিত বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে ডায়েট চার্ট তৈরি করা।  তাছাড়া আমরা ইতোমধ্যে জানতে পেরেছি কোন খাবারগুলো হাইপোথাইরয়েডিজম রোগীদের খেতে হবে এবং কোনগুলো পরিহার করতে হবে। উপযুক্ত খাবারগুলো নিয়ে খুব সহজেই একটা ডায়েট চার্ট তৈরি করা যেতে পারে।

থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে থাইরক্সিন হরমোন প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পরিমাণে নিঃসৃত হলে হাইপারথাইরয়েডিজম রোগ হয়। যে খাবারগুলো থাইরক্সিন হরমোন উৎপাদন বৃদ্ধি করতে পারে সেগুলো হাইপারথাইরয়েডিজম রোগীরা খেতে পারবে না। কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো থাইরয়েড ফাংশনের ভারসাম্য রক্ষা করতে সাহায্য করে। এই ধরনের খাবার গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক।

১.কম আয়োডিনযুক্ত খাবার

খনিজ আয়োডিন থাইরয়েড হরমোন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই থাইরয়েড হরমোন উৎপাদন কমাতে খেতে হবে কম আয়োডিনযুক্ত খাবার। খাবার তালিকায় রাখতে পারেন:

  • আয়োডিনহীন লবণ
  • কফি ও চা (দুধ ছাড়া বানাতে হবে)
  • ডিমের সাদা অংশ
  • বাদাম এবং বাদামের মাখন
  • ভাত ও রুটি
  • তাজা ফল
  • পপকর্ন
  • ওটস
  • আলু
  • মধু

তবে মনে রাখবেন, কোন খাবার তৈরি করার সময় আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করা যাবে না।

২.ক্রুসিফেরাস শাকসবজি

ক্রুসিফেরাস শাকসবজি থাইরয়েড হরমোন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তাই হাইপারথাইরয়েডিজম রোগীদের ক্রুসিফেরাস শাকসবজি খাওয়া উচিত। ক্রুসিফেরাস শাকসবজির মধ্যে রয়েছে: ব্রকলি, ব্রাসেলস স্প্রাউট, ফুলকপি, বাঁধাকপি, সরিষা শাক ইত্যাদি।

৩.আয়রন

থাইরয়েড গ্রন্থিকে সুস্থ রাখার জন্য যে ধরনের পুষ্টি উপাদান প্রয়োজন আয়রন তাদের মধ্যে অন্যতম। আয়রন থাইরয়েড ফাংশন ও দেহের অন্যান্য ক্রিয়াকলাপ স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

হাইপারথাইরয়েডিজম রোগীদের পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়রন যুক্ত খাবার খেতে হবে। উচ্চ আয়রনযুক্ত খাবার গুলোর মধ্যে রয়েছে: কলিজা, ছোলা, ডাল জাতীয় খাবার, পালং শাক, কুমড়ার বিচি ইত্যাদি।

৪.সেলেনিয়াম

সেলেনিয়াম কোষের ক্ষতি প্রতিরোধ করে। এই পুষ্টি উপাদানটি থাইরয়েড এবং অন্যান্য টিস্যু সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। থাইরয়েড প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় প্রয়োজন সেলেনিয়াম। তাই আমাদের পর্যাপ্ত পরিমাণে সেলেনিয়াম সমৃদ্ধ খাবার গুলো খেতে হবে।

চিয়া বীজ, মাশরুম, চা, মাংস, মুরগির মাংস ও সূর্যমুখীর দানায় পর্যাপ্ত পরিমাণে সেলেনিয়াম থাকে।

৫. জিংক

থাইরয়েড রোগের প্রতিরোধ ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজন জিংক। জিংক পেতে আমাদের পর্যাপ্ত পরিমাণে জিংক সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। যেমন: কাঁকড়া, ঝিনুক, চিংড়ি ও অন্যান্য সামুদ্রিক মাছে জিংক থাকে। মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, বাদাম ও মাশরুমে জিংক রয়েছে।

৬.ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি

হাইপারথাইরয়েডিজম রোগীদের হাড় নরম ও ভঙ্গুর হয়। তাই হাড়ের সুস্থতা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজন ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি। দুধ, দই, ডাল, ডিম, পালং শাক, ফুলকপিতে ক্যালসিয়াম রয়েছে।

ভিটামিন ডি এর সবচেয়ে ভালো উৎস হল সূর্যের আলো। তাছাড়া মাশরুম, স্যামন, সাডিন, টুনা, ইলিশ মাছের ডিম, চিংড়ি ও অন্যান্য সামুদ্রিক মাছে ভিটামিন ডি থাকে।

৭.স্বাস্থ্যকর ফ্যাট

অলিভ অয়েল, নারকেল তেল, সূর্যমুখীর তেল, বাদাম এবং বীজ জাতীয় খাবারে রয়েছে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট যা হাইপারথাইরয়েডিজম রোগীদের জন্য উপকারী। 

এগুলো ছাড়াও কিছু মসলা রয়েছে যেগুলো ভেষজ গুণসম্পন্ন। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর মসলাগুলো থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্য রক্ষায় কার্যকর বলে গবেষণায় প্রমাণিত। যেমন: হলুদ, সবুজ মরিচ, গোল মরিচ ইত্যাদি।

হাইপারথাইরয়েডিজম রোগীদের নিষিদ্ধ খাবার

চিংড়ি, সামুদ্রিক শৈবাল ও সব ধরনের সামুদ্রিক মাছ প্রচুর পরিমাণে আয়োডিন থাকে। দুধ, দই সহ অন্যান্য দুগ্ধজাত খাবারে রয়েছে আয়োডিন। তাছাড়া আয়োডিন যুক্ত লবণ দিয়ে বানানো সব ধরনের খাবারে আয়োডিন থাকে।

হাইপারথাইরয়েডিজম রোগীদের জন্য আয়োডিন ক্ষতিকর। তাই এই রোগীদের সীমিত পরিমাণে আয়োডিনযুক্ত খাবার খেতে হবে। প্রক্রিয়াজাত মাংস একটি অস্বাস্থ্যকর খাবার যা থাইরয়েড রোগীদের জন্য ক্ষতিকর। তাই এই ধরনের খাবার গুলো পরিহার করা উচিত।

থাইরয়েড এর চিকিৎসা

থাইরয়েড কি ভালো হয়? যা আমাদের অনেকের একটা কমন প্রশ্ন। থাইরয়েড এর চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা থাকলে বিষয়টা স্পষ্টভাবে বুঝতে পারবেন। হাইপোথাইরয়েডিজমের স্ট্যান্ডার্ড চিকিৎসায় প্রতিদিন সিন্থেটিক থাইরয়েড হরমোন লেভোথাইরক্সিন ব্যবহার করা হয়। এই ওষুধ ব্যবহারের ফলে ‌হাইপোথাইরয়েডিজমের লক্ষণ ও উপসর্গগুলি দূর হয় এবং শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রায় থাইরয়েড হরমোন উৎপন্ন হয়।

তাছাড়া এই ওষুধ সেবনে শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমতে শুরু করে এবং ওজন কমে। হাইপো হাইপোথাইরয়েডিজমের ওষুধ আজীবন সেবন করতে হতে পারে। রোগের তীব্রতা অনুসারে ওষুধের মাত্রা পরিবর্তিত হতে পারে। তাই প্রতিবছর ডাক্তার দেখাতে হবে এবং ডাক্তারের নির্ধারিত ডোজ অনুসারে ওষুধ সেবন করতে হবে।

হাইপারথাইরয়েড রোগীদের অ্যান্টিথাইরয়েড ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। এই ওষুধ সেবনে থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতা হ্রাস পায়। এই ওষুধ দেহের জন্য প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত থাইরোড হরমোন উৎপাদনে বাধা দেয়।

চিকিৎসকরা সাধারণত সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত অ্যান্টিথাইরয়েড ওষুধ সেবনের পরামর্শ দিয়ে থাকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দুই বছর পর্যন্ত ওষুধ সেবনে হাইপারথাইরয়েডিজম ভালো হয়ে যায়। দ্বিতীয়বার হাইপারথাইরয়েডিজম হতে পারে সেক্ষেত্রে রেডিও আয়োডিন থেরাপি দিয়ে চিকিৎসা করা হয়।

শেষ কথা

থাইরয়েড একটি হরমোনের সমস্যা জনিত রোগ যা থাইরয়েড হরমোনের কম বা বেশি উৎপাদনের কারনে হয়। থাইরয়েড রোগীদের খাবারের কিছু বিধি নিষেধ আছে।

রোগের তীব্রতা বাড়াতে পারে এমন সব খাবার খাদ্য তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে। খেতে হবে থাইরয়েড থেকে সুস্থ হতে সাহায্য করে এমন সব খাবার। খাদ্য, লাইফস্টাইল ও চিকিৎসকের নির্দেশ মোতাবেক ওষুধ সেবনে এই রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *