কোন ফলে কত ক্যালরি থাকে এর তালিকা।

কোন ফলে কতটুকু ক্যালরি থাকে তার একটি তালিকা দেওয়া হয়েছে এই পোস্টে। আমরা সবাই কমবেশি ফল খেতে পছন্দ করি। ফল জাতীয় খাবারের গ্লুকোজ বেশি থাকে। মিষ্টি ফল বা ফলের রস খেলে এই গ্লুকোজ শরীরে প্রবেশ করে শক্তির যোগান দেয়।

গ্লুকোজ ছাড়াও ফলে অন্যান্য পুষ্টি উপাদান থাকে। যেমন: ভিটামিন, মিনারেল, ক্যালসিয়াম, ফাইবার ইত্যাদি।সব ধরনের ফলে ক্যালরির পরিমাণ কিন্তু এক রকম হয় না। শরীরে ক্যালরির ভারসাম্য ঠিক রাখার জন্য আমাদের জানতে হবে কোন ফলে কত ক্যালরি থাকে।

প্রতিনিয়ত ক্যালরির অভাবে শরীরে দেখা দিতে পারে কিছু সমস্যা। বিশেষ করে শরীর রোগা পাতলা হয়ে যায়। অল্প পরিশ্রমে হাঁপিয়ে ওঠা, খিটখিটে মেজাজ, অস্থিরতা আরো নানা স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে পর্যাপ্ত ক্যালরির অভাবে। দুর্বল ইমিউনিটি সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকার একটি উল্লেখযোগ্য কারণ হলো শরীরে ক্যালরির ঘাটতি। ইমিউনিটি সিস্টেম উন্নত ও শরীর সুস্থ রাখতে ক্যালরি যুক্ত খাবার গুলো খেতে হবে।

কোন ফলে কতটুকু ক্যালরি থাকে এর তালিকা।

আবার অতিরিক্ত ক্যালরি শরীরের জন্য ক্ষতিকর। তাই সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সঠিক মাত্রায় ক্যালরি গ্রহণ করতে হবে। আপনাকে প্রতিদিন কতটুকু পরিমাণে ক্যালরি করতে হবে তা বডি মাস ইনডেক্স বা বি এম আই (BMI) অর্থাৎ শরীরের ওজন ও উচ্চতার অনুপাত হিসেব করে নির্ধারণ করতে হবে।

সঠিক মাত্রায় ক্যালরি নিশ্চিত করতে কোন খাবারে কতটুকু ক্যালরি থাকে সেটাও জানতে হবে।এই আর্টিকেলটিতে বিভিন্ন ফল এবং এদের মধ্যে থাকা ক্যালরির পরিমাণ নিয়ে একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। আপনারা আজ জানতে পারবেন কোন ফলে কত ক্যালরি থাকে।

কোন ফলে কত ক্যালরি

আমরা সবাই আমাদের দেশি ফলগুলোর সাথে পরিচিত। আম, জাম, কাঁঠাল, পেয়ারা, নারিকেল, আতা ফল বড়ই ইত্যাদি ফলের গাছ গ্রাম অঞ্চলের প্রায় সব বাড়িতেই কম বেশি দেখা যায়।

আরো পড়ুন হামদর্দ এর ঔষধ তালিকা ও পরিচিতি।

ফল চাষ অনেক লাভজনক হওয়ায় অনেক কৃষক ফল চাষের দিকে ঝুকছে। এমনকি ড্রাগন, স্ট্রবেরি, অ্যাভোকাডো ও রকমেলনের মত বিদেশি ফল চাষ করছে অনেকেই। দেশি-বিদেশি সব ধরনের ফল আমাদের দেহের পুষ্টি চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

কাঁঠাল:  প্রথমেই আমাদের জাতীয় ফলে ক্যালরির পরিমাণ সম্পর্কে জানা যাক। ১ কাপ পরিমাণ কাঁঠাল থেকে প্রায় ১৫৭ ক্যালরি পাবেন। কাঁঠালে আরো রয়েছে ভিটামিন, মিনারেল, ফাইবার ইত্যাদি।

আম: আমাদের দেশে গ্রীষ্মকালীন ফল গুলোর মধ্যে আম অন্যতম। বৈশাখের মাঝামাঝি থেকে আম পাকতে শুরু করে। আমাদের দেশে নানা জাতের আম পাওয়া যায়। ১ কাপ পরিমাণ কাটা আমের প্রায় ৯৯ ক্যালরি থাকে। কাঁচা আমে থাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। 

খেজুর: শুধু মিষ্টি স্বাদের জন্য নয় ক্যালরির দিক থেকেও খেজুর সবার আগে। মাত্র ৫ টি খেজুর থেকে পাবেন প্রায় ৩৩০ ক্যালরি। মেডজুল জাতের খেজুরে ক্যালরির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।

কলা: ১টি মাঝারি সাইজের কলাতে প্রায় ১০৫ ক্যালরি থাকে। ক্যালরির পাশাপাশি আরো নানা পুষ্টি উপাদানের যোগান দেয় কলা। ১টি কলাতে পাবেন প্রায় ৫০০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম। পটাশিয়াম রক্ত প্রবাহ স্বাভাবিক পর্যায়ে রাখে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করার মাধ্যমে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়।

নারিকেল বা নারকেলে: ১ কাপ পরিমাণে নারকেলের শাঁসে প্রায় ২৮২ ক্যালরি থাকে। পুষ্টিগুনের পাশাপাশি নারকেলের রয়েছে নানা স্বাস্থ্য উপকারিতা। চুল, ত্বক, হার্ট ভালো রাখা সহ হজম শক্তি বৃদ্ধি, ইনসুলিন নিয়ন্ত্রণ ও ওজন কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে নারকেল।

আঙ্গুর: ১ কাপ আঙ্গুরে প্রায় ১০৪ ক্যালরি থাকে। খুব নরম ও রসালো ফল হওয়ায় আমাদের দেশে রোগীর পথ্য হিসেবে আঙ্গুর বেশ পরিচিত।

নাশপাতি: নাশপাতিতে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, অন্যান্য ভিটামিন, মিনারেল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। তাই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে খেতে পারেন নাশপাতি। ১ টি বড় সাইজের নাশপাতিতে প্রায় ১৩১ ক্যালরি থাকে।

আপেল: শরীরে ১১৬ ক্যাল‌রি যোগ করতে চাইলে খেতে পারেন একটি বড় সাইজের আপেল।

অ্যাভোকাডো: ২০১ গ্রাম ওজনের একটি অ্যাভোকাডোতে প্রায় ৩২২ ক্যালোরি রয়েছে।
 
কিশমিশ: আধা কাপ বা ৪৩ গ্রাম কিশমিশ প্রায় ২৪৭ ক্যালোরি সরবরাহ করে। কিশমিশে পটাশিয়াম, কপার ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পাওয়া যায়।
 
ডালিম: ডালিম আমাদের দেশে মোটামুটি পরিচিত একটি ফল। ২৮২ গ্রাম ওজনের একটি ডালিম থেকে প্রায় ২৩৪ ক্যালরি পাবেন। তাছাড়া ডালিমে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ভিটামিন কে ও কপার থাকে।
 
পেয়ারা: ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল গুলোর মধ্যে পেয়ারা সেরা। এমনকি পেয়ারায় কমলা লেবুর চেয়েও বেশি ভিটামিন সি থাকে। পেয়ারাকে হাই ক্যালরি ফলের তালিকাতে রাখা যায়। কেননা মাত্র ১১০ গ্রাম ওজনের একটি পেয়ারাতে ১৩৬ ক্যালরি রয়েছে।

১০০ গ্রাম জাম থেকে পাওয়া যায় ৬০ ক্যালরি, ১৫৩ গ্রাম স্ট্রবেরিতে ৫৩ ক্যালরি, ১০০ গ্রাম ব্লুবেরিতে ৫৭ ক্যালরি ও ১০০ গ্রাম লিচুতে ৬৬ ক্যালোরি থাকে।

কোন কোন ফল খেলে ওজন বাড়ে

শুকনো ফলে উচ্চ মাত্রায় শর্করা বা ক্যালরি থাকে। তাই বেশি বেশি শুকনো ফল খেলে ওজন বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যেমন: শুকনো খেজুর, কিসমিস, বরই ইত্যাদি। পেঁপে,আনারস,আম ও কলাতে ক্যালরি বেশি থাকে। আপনি যদি ওজন কমাতে চান তাহলে এই ফলগুলো পরিমাণমতো খাবেন। উচ্চ ক্যালরি সমৃদ্ধ সব ধরনের ফল খেলে দেহের ওজন বৃদ্ধি পায়।

শেষ কথা

দীর্ঘক্ষণ কাজ করার ফলে শরীর ক্লান্ত হয়ে গেলে হাই ক্যালরির যেকোন তাজা ফল খেয়ে নিতে পারেন। দ্রুত শরীরে এনার্জি পাবেন ও ক্লান্তি দূর হবে।
 
যাদের ওজন বেশি এবং ডায়েট কন্ট্রোল করছেন তারা কম ক্যালরি সমৃদ্ধ ফলগুলো খাবেন। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে পটাশিয়াম সমৃদ্ধ ফল গুলো বেশি বেশি খেতে হবে। শরীরের ওজন বাড়াতে চাইলে সব ধরনের হাই ক্যালরির ফল খেতে পারেন  এতে কোন সমস্যা নেই।
 
ক্যালরির পাশাপাশি ফাইবার উচ্চমাত্রায় থাকে এমন ফল খেলে শরীরের ওজন বাড়ার ঝুঁকি তেমন থাকে না। 

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *