ইস্ট্রোজেন হরমোন যুক্ত খাবার। মেয়েদের হরমোন বৃদ্ধির খাবার।

ইস্ট্রোজেন হল মেয়েদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ হরমোন। যা কমে গেলে মেয়েদের নানা ধরনের স্বাস্থ্যগত সমস্যা দেখা দেয়। কিছু খাবার ইস্ট্রোজেন বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এই পোস্ট থেকে ইস্ট্রোজেন যুক্ত খাবার গুলো সম্পর্কে জানতে পারবেন।
 
মেয়েদের শরীরে হরমোন বৃদ্ধির খাবার গুলোর মধ্যে ফ্ল্যাক্সসিড, বেরি ও কিছু বীজ জাতীয় খাবার রয়েছে। এগুলো ইস্ট্রোজেন বৃদ্ধিতে দারুন ভাবে কাজ করে। আসলে এই খাবারগুলোতে ফাইটোস্ট্রোজেন নামের এক ধরনের কম্পাউন্ড থাকে। এই ফাইটোস্ট্রোজেন মেয়েদের শরীরে হরমোনের বৃদ্ধি ঘটায়।
 
মাসিক চক্র নিয়ন্ত্রণ এবং স্তনের বৃদ্ধি ও বিকাশ সহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে এই ইস্ট্রোজেন। নারীদের মাসিক চক্র স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া আমাদের কাছে মেনোপজ নামে পরিচিত। মেনোপজের সময় ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমে যায়। ফলে অতিরিক্ত গরম লাগা, রাতে প্রচন্ড ঘাম সহ কিছু উপসর্গ দেখা দেয়।
 
মেয়েদের ইস্ট্রোজেন বৃদ্ধি পায় প্রজনন বয়সে। এসময়ে এই হরমোন কমে গেলে একজন ডাক্তারের পরামর্শ নিন। এখানে যে ইস্ট্রোজেন যুক্ত খাবার সম্পর্কে জানানো হয়েছে মেয়েদের শরীরের ইস্ট্রোজেনের ঘাটতি পূরণে আশ্চর্যজনকভাবে কাজ করে।

মেয়েদের হরমোন বৃদ্ধির খাবার

মেয়েদের হরমোন বৃদ্ধির খাবার তালিকা।
পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। আসুন জেনে নেই প্রাকৃতিকভাবে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা বাড়ানোর খাবার কোন গুলো।

১. ফ্ল্যাক্সসিড বা তিসি বীজ

প্রাকৃতিকভাবে নারী দেহের হরমোন বাড়াতে তিসি বীজ খুব ভালো কাজ করে। তিসি বীজে রয়েছে প্রচুর স্বাস্থ্য উপকারিতা। এই কারণেই বর্তমান সময়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। তিসি বীজে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে লিগনান।
 
এই লিগনান ফাইটোস্ট্রোজেন হিসেবে কাজ করে। প্রকৃতপক্ষে তিসি বীজে অন্যান্য বীজের চেয়ে ৮০০ গুণ বেশি লিগনান থাকে। তিসি বীজকে লিগনান এর খনি বলতে পারেন। তিসি বীজে থাকা লিগনান বা ফাইটোস্ট্রোজেন মেয়েদের বডিতে হরমোন বাড়ানো ও স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে কার্যকর, যা গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে।

২.সয়া

সয়াতে রয়েছে প্রচুর আইসোফ্লাভোন ও ফাইটোস্ট্রোজেন যা মেয়েদের দেহে হরমোন বৃদ্ধির পাশাপাশি স্তন এবং প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। সয়াতে ভিটামিন ও মিনারেল উল্লেখযোগ্য পরিমাণে থাকে। হরমোন বাড়াতে ও পুষ্টির জন্য খেতে পারেন সয়া মিল্ক।

৩.রসুন

ইনফ্লামেশনের কারণে হরমোনের ঘাটতি দেখা দেয়ার ঝুঁকি থাকে। ইনফ্লামেশন দূর করতে সাহায্য করে অ্যান্টিইনফ্লামেটরি বৈশিষ্ট্য যুক্ত খাবার। তেমনই একটি খাবার হল রসুন। রসুন একটি মসলাদার খাবার এই কথা আমরা সবাই কম বেশি জানি।
 
রসুনের রয়েছে অনেক ঔষধি গুণ। শরীরের ইনফ্লামেশন কমায় রসুন। আর ইনফ্লামেশন কমলে শরীরে হরমোন উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। তাই হরমোন বাড়াতে প্রতিদিন খেতে পারেন দু চারটা রসুনের কোয়া।

৪.পীচ ফল

পীচ একটি বিদেশি ফল। ইস্ট্রোজেন বাড়াতে ভালো কাজ করে তাই এখানে উল্লেখ করলাম। তিসি বীজের মত লিগনান নামক ফাইটোস্ট্রোজেন থাকে পীচ ফলে। গবেষণায় দেখা গেছে লিগনান যুক্ত খাবার খেলে মেনোপজের পর স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি ১৫ পার্সেন্ট পর্যন্ত কমে যায়।

৫.তিলের বীজ

তিলের বীজ হল প্রাকৃতিকভাবে ইস্ট্রোজেন বাড়ানোর আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ খাবার। তিলের বীজ ফাইটোস্ট্রোজেন দিয়ে ভরপুর থাকে। তিলের বীজ রক্তের কোলেস্টেরল কমায়। হরমোন বাড়ানোর পাশাপাশি কোলেস্টেরল কমাতে খাদ্য তালিকায় তিলের বীজ রাখা প্রয়োজন।

৬.শুকনো ফল

শুকনো ফল সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যকর খাবার একথা মানতেই হবে। নানা পুষ্টিগুণে ভরপুর থাকে শুকনো ফল গুলো। ইস্ট্রোজেন বাড়াতে দরকার ফাইটোস্ট্রোজেন যা শুকনো ফলে প্রচুর পরিমাণে থাকে। তাছাড়া যারা ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খেতে চান শুকনো ফল তাদের জন্য উন্মুক্ত খাবার।

৭.ক্রুসিফেরাস সবজি

এবার আসি হরমোন বাড়ানোর সবজির কথায়। ক্রুসিফেরাস জাতীয় সবজিগুলো হরমোন বাড়াতে ভালো কাজ করে।
 
আগেই বলেছি হরমোন বাড়ানোর জন্য অ্যান্টিইনফ্লামেটরি বৈশিষ্ট্য যুক্ত খাবার গুলো খেতে হবে। ক্রুসিফেরাস সবজি গুলোতে রয়েছে অ্যান্টিইনফ্লামেটরি গুন। ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রকলি ইত্যাদি ক্রুসিফেরাস সবজি খেলে ইনফ্লামেশন কমবে।

৮.বাদাম

বাদামের সুনাম রয়েছে তার স্বাস্থ্য উপকারিতার জন্য। কাজু, চিনাবাদাম, পেস্তা বাদাম বা কাঠবাদাম সব ধরনের বাদামে মেয়েদের ইস্ট্রোজেনের মাত্রা বৃদ্ধির জন্য ফাইটোস্ট্রোজেন উপাদান থাকে। তাই ইস্ট্রোজেন বাড়াতে চাইলে প্রতিদিন বাদাম খাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন।

আরও পড়ুন কোন কোন খাবারে ভিটামিন সি আছে? ভিটামিন সি যুক্ত খাবার।

শেষ কথা

 সংক্ষিপ্ত করে যদি বলা হয়, বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে মেয়েদের দেহে হরমোন স্বাভাবিকভাবেই কমতে থাকে। তাছাড়া হরমোন জনিত রোগের কারণেও কমতে থাকে। ফাইটোস্ট্রোজেন সমৃদ্ধ খাবার, ভিটামিন এবং হরমোন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণে বাড়ে মেয়েদের হরমোন। যাইহোক আপনি কোন হরমোন জনিত সমস্যায় আক্রান্ত হলে একজন ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *